সরকারি ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে নিয়ম অনেক শিথিল করলো শুভেন্দু সরকার
সরকারি ফ্ল্যাট একটা থাকলেও দ্বিতীয় সরকারি ফ্ল্যাট কেনা যেত না। এটাই দীর্ঘদিনের নিয়ম। কিন্তু সংসারের সদস্যর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে একটা ফ্ল্যাটে হচ্ছে না। এই অবস্থায় তাদের দ্বিতীয় ফ্ল্যাট কেনার অনুমতি দিচ্ছে সরকার। রাজ্যের আবাসন পর্ষদের আবাসনগুলিতে দ্বিতীয় ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে বহুবছর ধরে চালু থাকা সরকারি নিয়ম অনেকটাই শিথিল করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।রাজ্যের স্কুলশিক্ষা ও আবাসনমন্ত্রী দীপক বর্মন শুক্রবার রাজ্য সরকারের নয়া সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, “পরিবারের প্রয়োজনে, সংসার বড় হয়ে গেলে আগামিদিনে কেউ একটি সরকারি ফ্ল্যাট থাকলেও নূন্যতম মূল্যে দ্বিতীয় ফ্ল্যাট বুকিং করতে পারবেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহকর্তা তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মাকে কাছে রাখতে অথবা ছেলের বিয়ে দিয়ে বউমাকে নিয়ে বসবাসের জন্য আরও একটি ফ্ল্যাট ওই আবাসনে পেলে কিনতেই পারেন। সরকারের আবাসন পর্ষদ সবদিক খতিয়ে দেখেই আবাসিকদের দ্বিতীয় ফ্ল্যাট বুকিংয়ে অনুমতি দেবে।” সরকারি ফ্ল্যাট বণ্টনে বাম আমল থেকেই লটারি প্রথা মানা হয়। কিন্তু এখনও নানা সরকারি আবাসনে কিছু অবিক্রিত ফ্ল্যাট রয়েছে সেগুলি বণ্টনের ক্ষেত্রে ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে বিক্রি হবে বলে মন্ত্রী জানান।
তাঁর কথায়, “অবিক্রিত ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে একই আবাসনে বসবাস করা বাসিন্দারাও আবেদন করতে পারবেন।” নতুন প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রী জানান, আইনি জটিলতা কাটিয়ে ও অর্থদপ্তরের সবুজ সংকেত নিয়ে শীঘ্রই সাড়ে তিন হাজার জমির প্লট ও ফ্ল্যাট নূন্যতম মূল্যের বিক্রি করবে রাজ্য সরকার। শুধু তাই নয়, সরকারি আবাসনে ‘লিজহোল্ড’ ফ্ল্যাটগুলিও নূন্যতম ফি নিয়ে ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তরের কাজে আরও গতি আনবে রাজ্য আবাসন পর্ষদ। আবাসন পর্যদের অধীনে পলতা ও আকড়ার ইটভাটাগুলির পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে আগামীদিনে প্রায় ৬ হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান হবে বলেও মন্ত্রী দাবি করেন। ফ্ল্যাটের পাশাপাশি সরকারি দরে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুলি জেলার রাজগঞ্জের বিন্নাগুড়িতে ৭ একর জমি ছোট ছোট প্লট করেও বিক্রি করবে সরকার। আবাসন মন্ত্রী স্বয়ং ইতিমধ্যেই জমি পরিদর্শন করেছেন। ১০মাস পরে এই প্লট বিক্রির জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। পাশের ডাবগ্রাম-ফুলবাডি় বিধানসভার বাইপাসে ‘হিমালয় কন্যা’ আবাসনে সাততলা আবাসনের ফ্ল্যাট ২০২৮ সালের অক্টোবর মাসে পাওয়া যাবে। নানা প্রকল্পে নিম্ন আয়ের ক্ষেত্রে ৪৫০০ টাকা (এলআইজি) ও মধ্যবিত্তদের জন্য ৫১০০ টাকা থেকে ৫৫০০ টাকা (এমআইজি) প্রতি বর্গফুট দরে ফ্ল্যাটগুলি আবাসন পর্ষদ বিক্রি করবে আবাসন পর্ষদ।