চা বাগানে কাজ করতে যাওয়ার পথে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত দুই মহিলা শ্রমিক
চা বাগানে কাজ করতে যাওয়ার পথে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত দুই মহিলা শ্রমিক। মঙ্গলবার সকাল আটটা নাগাদ মাল ব্লকের কুমলাই গ্রামপঞ্চায়েতের বরদিঘি থেকে কুমলাই যাওয়ার রাস্তায় ঝুলে থাকা হাইটেনশন তারে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল দুই শ্রমিকের। আহত হয়েছে আরো চারজন। ঘটনায় ঐ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিস সুত্রেই জানা গিয়েছে মৃতাদের নাম রাধিকা উরাও (১৯), আলিশা উরাও (১৬)। বাড়ি কুমলাই গ্রামপঞ্চায়েতের খাগরিজান এলাকায়। আহত মনীষা ওরাওঁ, ঋতু ওরাওঁ, অভিষেক ওরাওঁ, নিতা ওরাওঁ এবং প্রিয়াঙ্কা ওরাওঁ দের আঘাত গুরুতর না থাকায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মৃতা আলিশা ওরাওঁ নাবালিকা হওয়ায় অভিযোগের আঙুল উঠছে ঠিকাদার জাকির আলমের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ ,কোন আইনের ভিত্তিতে নাবালিকাদের দিয়ে শ্রমিকের কাজ করাচ্ছে সে ঠিকাদার।
জানা গিয়েছে খাগরিজান এলাকা থেকে একটি পিকআপ ভ্যানে করে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিকরা টুনবাড়ি চাবাগানে যাচ্ছিল কাচা চা পাতা তোলার কাজ করতে।কিন্তু বরদিঘির হরিমন্দির এলাকায় রাজ্যসড়কে ঝুলে থাকা হাইটেনশনের তারের সংস্পর্শে এসে যায়। দুই শ্রমিকের গায়ে সেই তার জড়িয়ে যায়। দুইজনেই গাড়ি থেকে রাস্তায় পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। সকলকেই স্থানীয়রা উদ্ধার করে মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ দুদিন থেকেই বিদ্যুতের সেই তারটি মৃত্যুফাঁদের মত ঝুলে ছিল, যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। এদিন মৃতা দুই জনের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যুৎ বন্টন বিভাগের এই গাফিলতিতে রীতিমতো ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী। মৃতাদের পরিবারের তরফে মাল থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।
