ভ্রমন
কোলকাতার কাছে একদিনের আউটিং 'বনবীথি'
মন চাইছে ধারে-কাছে একদিন পরিবার নিয়ে কোথাও ঘুরতে যেতে। একটু নির্জনে নিজেদের মতো করে থাকা। ব্যস, বেশি দূর নয়, চলে আসুন দক্ষিণ ২৪ পরগনার 'বনবীথি ইকো রিসর্ট'এ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার এলাকার চাম্পাহাটির ঘটক পুকুর রোডে অবস্থিত। সবুজে ঘেরা এই ছুটির ঠিকানাটি নানা রকম বাহারী ফুল গাছ, পাতাবাহার গাছের বাগান আর বড় গাছের নীচে বসার বাঁধানো জায়গায় যেন এক শান্ত-মনমুগ্ধকর আশ্রমিক প্রশান্তিতে মন ভরে দেবে, জুড়াবে চোখের তৃষ্ণাও। বড়-বুড়োদের জন্য রয়েছে খড়ের ছাউনি দেওয়া চা খাওয়ার ও বিশ্রামের জায়গা। আর বাচ্চাদের খেলার জন্য রয়েছে তিন তিনটে মাঠ, দোলনা ও আরও অনেক কিছু। এখানে ঢুকলেই চোখে পড়বে চারটে মাড হাউস, যেগুলির প্রত্যেকটির সামনে রয়েছে একটি করে ছোট্ট ফুলের বাগান। এর সামনেই একটা রেস্ট রুম রয়েছে, তার ডান পাশেই আছে ট্রি হাউজ। এই ট্রি হাউজ সাধারনত ব্যবহার হয় এখানে আসা অতিথিদের কমনরুম হিসেবে। এখানে বই পরে সময় কাটানোর জন্য একটি ছোট লাইব্রেরিও আছে। আর সকলের খেলার জন্য আছে একটা ক্যারম বোর্ড। এই ট্রি হাউজের নীচে একটা নার্সারী আছে, সেখান থেকে চাইলে নিজের পছন্দ মতো গাছ কিনেও নিয়ে যেতে পারেন। এই নার্সারীর পাশেই রয়েছে নানা রকম পাখিতে ভরা দুটি খাঁচা। পাখির কিচিরমিচিরে মন এমনিতেই সব ব্যাস্ততা ভুলে যাবে। এছাড়াও এখানে রয়েছে বোটিংয়ের ব্যবস্থা, রয়েছে সুইমিং পুলও।
এখানে খাবারের খরচ একটু বেশি। তবে দারুন খাবার। মন ভরে যাবে ওদের রান্না খেয়ে। থাকার জন্য বনবীথি একটু খরচ সাপেক্ষ ঠিকই,কিন্তু মাত্র তো এক বা দু'দিন। বনবীথি রিসর্টে দুটো টেন্ট হাউজ বা তাবু রয়েছে। তবে এই দুটো টেন্ট হাউসের জন্য একটা কমন বাথরুম রয়েছে টেন্টের বাইরে। টেন্টের দুটি ব ভাড়া ২০০০ টাকা করে, দুজনের বেশি অতিরিক্ত ব্যক্তির ভাড়া মাথাপিছু ৬০০ টাকা। এখানের ট্রি হাউজ আর অন্যান্য ঘর ভাড়া মোটামুটি ৩০০০ টাকা থেকে ৫৫০০ টাকা পর্যন্ত। ঘরগুলিতে অন্তত ৫-৬ জন অনায়াসে থাকতে পারবেন।
যাওয়া - কলকাতার বিভিন্ন জায়গা থেকে বাসে সায়েন্স সিটি পর্যন্ত চলে আসুন। সায়েন্সসিটি থেকে বাস বদলে ঘটকপুকুরগামী যে কোনও বাসে উঠে ঘটকপুকুর বাজারে নামতে হবে। সময় লাগবে মোটামুটি দেড় ঘন্টা। বাস ভাড়া লাগবে ২০ টাকার মধ্যে। ঘটকপুকুর বাজার থেকে টোটো বা ভ্যান নিয়ে মাত্র ১০-১৫ মিনিটেই পৌঁছে যাবেন বনবীথি ইকো রিসর্টে।
আর চিন্তা না করে বেরিয়ে পড়ুন পরিবার নিয়ে।আনন্দে দু'একদিন কাটিয়ে আসুন 'বনবীথি'তে।
