ভারতীয় ধর্মে 'সত্যম্ শিবম সুন্দরম' বলতে কি বোঝানো হয়
এক কথায় বলা হয়, যাই শিব তাই সত্য আর তাই সুন্দর। কিন্তু এই তিনটি শব্দের মধ্যে নিহিত আছে ভারতীয় ধর্মের গভীর মর্মার্থ। ভারতীয় ধর্ম মনে করে 'শিব' হলো ঈশ্বরের প্রতীক। তাহলে এখানে শিব শুধুই মহাদেব নয়, শিব হলেন স্বয়ং ঈশ্বর। সেই ঈশ্বরকে কেউ মঠ-মন্দিরে খুঁজে পান। সেখানে গিয়ে ভগবানের আরাধনা করেন তারা। আবার অনেকে বিবেকানন্দের মতো ঈশ্বরকে সমস্ত প্রাণীকুলের মধ্যে উপলব্ধি করেন। তাই তাদের মূল মন্ত্র -'জীব সেবায় শিব সেবা।' আবার বাউলদের মতো অনেকেই মনে করেন, প্রত্যেক মানুষের মনে গভীরে আছে প্রকৃত ঈশ্বর। ভক্তির মধ্য দিয়ে সেই ঈশ্বরকে খুঁজে নিতে হয়। তাহলে যা দাঁড়ালো তা হলো, ঈশ্বর আছেন ও তার প্রতি আমাদের গভীর বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা আছে।
এবার ভারতীয় ধর্ম বিশ্বাস করে যে, সেই শিব বা ঈশ্বর প্রতিষ্ঠিত সত্যের উপর। যেখানে সত্য নেই সেখানে ঈশ্বর নেই। স্বামী বিবেকানন্দ তাই বলতেন, সত্যের জন্য সব ত্যাগ করা যায়, কিন্তু কোনো কিছুর জন্যই সত্যিকে ত্যাগ করা যায় না। যেখানে 'মিথ্যা' মাথাচাড়া দেয় সেখানে কখনোই ঈশ্বর থাকেন না। ঈশ্বর কখনো সত্য থেকে বিচ্যুত হয় না। এই সত্যকেই আসলে 'ধর্ম' বলা হয়। সেই কারণেই মহাভারতে ভগবার শ্রীকৃষ্ণ ধর্মের পক্ষে অর্থাৎ সত্যের পক্ষে ছিলেন।
ভারতীয় দর্শন বিশ্বাস করে সৌন্দর্য কখনো বস্তুর মধ্যে নিহিত থাকে না। সৌন্দর্য থাকে মানুষের মনে। সেই মনের চোখ দিয়ে খুঁজে নিতে হয় সুন্দরকে। 'চেতনা' কবিতায় এই কথাই বলেছেন কবি রবীন্দ্রনাথ -
'গোলাপের দিকে চেয়ে বললুম "সুন্দর',
সুন্দর হল সে।
তুমি বলবে, এ যে তত্ত্বকথা, এ কবির বাণী নয়।
আমি বলব, এ সত্য, তাই এ কাব্য।'
এভাবেই ভারতীয় দর্শন সত্য, শিব ও সুন্দরকে এক জায়গায় মিলিয়ে দিয়েছে।
