মুর্শিদাবাদে বাবা ছেলে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার আরও এক
মুর্শিদাবাদে বাবা ও ছেলেকে খুনের ঘটনায় এই নিয়ে চারজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ঘটনাচক্রে ওই চারজনই স্থানীয় বাসিন্দা। এই
ঘটনায় চতুর্থ গ্রেফতারি হল। ধৃতের নাম জিয়াউল শেখ। পাশের সুলিতলা পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সে। এই খুনের ঘটনায় এমনিতে পুলিশের ওপর অসন্তুষ্ট ছিল স্থানীয়রা। অভিযোগ, হিংসা চলাকালীন ঘণ্টার পর ঘণ্টা পুলিশকে ফোন করা হয়েছিল। তবে কেউ আসেনি সেদিন। তবে সেই পুলিশই এখন খুনের তদন্তে নেমে একের পর এক দোষীকে গ্রেফতার করছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত জিয়াউল শেখ স্থানীয়দের একাংশকে উস্কানি দিয়েছিল এবং এই হামলার অন্যতম মূল 'উদ্যোক্তা' ছিল। হিংসার ঘটনার পরই এলাকা থেকে পালিয়ে গিয়েছিল সে। সম্প্রতি তাকে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মুর্শিদাবাদে হিংসার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারির সংখ্যা ২৭৬।
উল্লেখ্য বিষয়, এখনও পর্যন্ত ছেলে-বাবা খুনে যত জন গ্রেফতার হয়েছে, তারা সকলেই আশেপাশের বাসিন্দা। এর আগে মুর্শিদাবাদ হিংসায় 'আন্তর্জাতিক যোগ' নিয়ে সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে তিনি বিএসএফের দিকে আঙুল তুলে অভিযোগ করেছিলেন, বিদেশি জঙ্গিদের সীমান্ত পার করে ঢুকতে সাহায্য করেছিল বিএসএফ। তবে পুলিশের জালে ধরা পড়া সবাই স্থানীয় আশেপাশের গ্রামেরই। এই নিয়ে গতকাল বিজেপির সুকান্ত মজুমদারও সরব হয়ে দাবি করেছিলেন, স্থানীয়রাই এই হামলার নেপথ্যে আছে। এই আবহে পুলিশের তদন্তে মমতারই অভিযোগ 'ভুল' বলে প্রমাণিত হচ্ছে এখনও পর্যন্ত। এর আগে ইনজামাম হক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল হরগোবিন্দ এবং তাঁর ছেলের হত্যার ঘটনায়। পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এই ইনজামাম। পুলিশ তদন্ত করে জানতে পেরেছে যে এই ইনজামামের ব্যক্তিগত আক্রোশ ছিল হরগোবিন্দ এবং চন্দনের ওপরে। এদিকে ওয়াকফ হিংসায় খুন হওয়া হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের পরিবারের জন্য ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই ক্ষতিপূরণ তাঁরা নেবেন না বলে জানিয়েছিলেন দাস পরিবারের সদস্যরা।
