Type Here to Get Search Results !

বসিরহাটের তাঁতশিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে

 উঃ ২৪ পরগনা 


বসিরহাটের তাঁতশিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে 



  বাংলার প্রাচীন কুটির শিল্পের মধ্যে অন্যতম ছিল বসিরহাটের গামছা। বসিরহাটের গামছার চাহিদা ছিল ভারত জুড়ে। কিন্তু নানা কারণে সেই শিল্প এই মুহূর্তে মৃতপ্রায়। গামছা শব্দটি যতটা সরল, তার পেছনের শ্রম ততটাই জটিল ও শিল্পনির্ভর। বসিরহাটের পানিতর, পিফা, ভ্যাবলা, কেয়ামারি, মাটিয়া — এই সমস্ত গ্রামগুলি ছিল একেকটি তাঁত শিল্পের পাকা ঘাঁটি। এখানে গামছা তৈরি হত হাতে বোনা তাঁতে। একটি গামছা বানাতে লাগত দক্ষতা, ধৈর্য আর নিখুঁততা। কাঠের তাঁত, সুতো, রঙ, মাকু — সব মিলিয়ে তৈরি হত বাহারি রঙের ও নকশার গামছা, যা শুধু মাথা বা গা মুছতে নয়, বাংলার জীবনের নানা মুহূর্তের অংশ হয়ে উঠেছিল। চাষের মাঠে, গ্রামের মেলায়, হাটে-বাজারে, এমনকি উপহার হিসেবেও গামছা ছিল সম্মানের প্রতীক।


  এক সময় এই অঞ্চলে প্রায় ১০০টিরও বেশি তাঁত সক্রিয় ছিল। প্রতিটি ঘর থেকে ভেসে আসত মাকুর খুটখাট শব্দ — যেন শিল্পের ছন্দে চলা একটা পুরো পাড়া। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে পারেনি এই শিল্প। গামছা তৈরির কাঁচামাল যেমন সুতো, রঙ, মাকু, বাঁশি — সবকিছুর দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। অথচ বাজারে গামছার দাম বাড়েনি তেমনভাবে। বরং কারখানায় তৈরি, যন্ত্রচালিত সস্তা গামছা বাজার দখল করেছে। বসিরহাটের ভ্যাবলা গ্রামের প্রবীণ তাঁতশিল্পী কৃষ্ণপদ দাস বললেন, “আগে ১০০ টাকা খরচে যে গামছা বানাতাম, এখন সেখানে ২০০ টাকারও বেশি লাগে।" পরিস্থিতি এমন জায়গায় এসে ঠেকেছে যে নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আসতে চাইছে না। তাদের অনেকেই এখন অন্য রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতে চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ স্থানীয় দোকানে বা অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ধীরে ধীরে তাঁতের শব্দ থেমে যাচ্ছে বসিরহাটের পাড়ায় পাড়ায়। এই মুহূর্তে কিছুটা সরকারি সাহায্য পেলে হয়তো আবার সুদিন আসতে পারে বসিরহাটের গামছা শিল্পের।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.