আন্তর্জাতিক
বলোচিস্থান হাতছাড়া হলে পাকিস্তান ভিখারি হয়ে যাবে
সম্পূর্ণ পাকিস্তানের প্রায় ৪৫ শতাংশ বালোচিস্থান। তারা ইতিমধ্যে নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করেছে। কিন্তু পাকিস্তান কি অত সহজে বলোচ ছেড়ে দেবে? ক্রমেই বেড়ে চলেছে বিদ্রোহ। মাথা চাগার দিয়ে উঠেছে বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি। তাদের লক্ষ্য একটাই- পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা। ইতিমধ্যেই তারা নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা করে আলাদা দেশের স্বীকৃতি দাবি করছে। ভারতেও দূতাবাস খুলতে চেয়েছে। সত্যিই যদি বালোচিস্তান পাকিস্তানের থেকে আলাদা হয়ে যায়, তবে কতটা ধাক্কা খাবে পাকিস্তান? ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার সময় দ্বিখণ্ডিত হয় ভারত-পাকিস্তান। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান আবার ভাঙে। জন্ম নেয় বাংলাদেশ। ৩৪ বছর পর ফের একবার ভাঙনের মুখে পাকিস্তান। এবার তার থেকে জন্ম নিতে পারে বালুচিস্তান।
এখন বিদ্রোহে নেমেছে বালুচরা। একের পর এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী সরাসরি পাক সেনার উপরেই হামলা করছে। পাকিস্তানি সেনা এখন ক্ষমতার আস্ফালনেই ব্যস্ত। ভারতে আঘাত করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। এইদিকে সেই সুযোগেই হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে বালোচ আর্মি। বালুচিস্তান যদি সত্যি পাকিস্তানের থেকে আলাদা হয়ে যায়, তবে তা পাকিস্তানের জন্য বড় আঘাত হবে, কারণ তাদের আসল সম্পদ তো লুকিয়ে এখানেই। বালুচিস্তান হল পাকিস্তানের খনিজের ভাণ্ডার। বিপুল পরিমাণ সোনা, তামা ও অন্যান্য বহুমূল্য ধাতু মজুত রয়েছে বালুচিস্তানের মাটির নীচে। পাকিস্তানের সবথেকে বড় প্রদেশ বালুচিস্তান। ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই প্রদেশের অবস্থান এই অঞ্চলটিকে পাকিস্তানের জন্য কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বালুচিস্তান ৩ লক্ষ ৪৭ হাজার ১৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, যা পাকিস্তানের মোট জমির প্রায় ৪৪ শতাংশ। বালুচিস্তান পাকিস্তানের প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি বালুচিস্তান আলাদা হয়ে যায়, তবে পাকিস্তান ব্যাপক জ্বালানি সঙ্কটের মুখোমুখি হবে, কারণ তাদের তখন বাইরে থেকে জ্বালানি আমদানি করতে হবে।
