২০ দফা নির্দেশিকা জারি করল পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তর
সাধারণ নাগরিকদের জীবন অমূল্য। তার জন্য কোনো আপস নয় বুঝিয়ে দিল পুর ও নগর উন্নয়ন দফতর। বাণিজ্যিক বাড়ি কে কেন্দ্রে করে জারি ২০ দফায় নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দিল তারা।
বলা হয়েছে যে সম্প্রতি কলকাতায় ঘটে যাওয়ার ঘটনায় মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। যার জন্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিকের উপরে গাফিলতি ও নির্বিচারে অননুমোদিত দখলদারিত্ব কে মূল কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যে ভাবে রুফ টপ সহ ছাদের জায়গায় ও সিঁড়ি কে গোডাউন বা স্টোরেজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তাতেই বিপত্তি ঘটে যাওয়ার কারণ হিসাবে দেখা হচ্ছে। যা ওয়েস্ট বেঙ্গল মিউনিসিপাল ( বিল্ডিং) রুল্স ২০০৭ এবং কলকাতা মিউনিসিপাল বিল্ডিং ২০০৯ কে লঙ্ঘন করে হচ্ছে বলে জারি নির্দেশিকায় জানিয়ে দিল পুর ও নগর উন্নয়ন দফতর।
কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আপৎকালীন প্রস্তানের পথ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তাই এবার থেকে অনলাইন বিল্ডিং পারমিশন সিস্টেম বা ওবিপিএএস আবেদন করলে। আগে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং প্রস্থান পথে বাধামুক্ত রেখেই বিল্ডিং নির্মাণের অনুমতি ছাড়পত্র দেওয়া হবে বলে নির্দেশিকায় জানিয়ে দেওয়া হল। কারণ অনেক সময় দেখা যাচ্ছে যে প্রোমোটার, বাড়ি মালিক বা ডেভেলপার অনেক সময় বাড়ি নির্মাণের অনুমতি নিয়ে বেআইনি ভাবে বাড়তি তলা তৈরি করে ফেলছে। তাই এবার পুর ও নগর উন্নয়ন দফতর একটি গাইডলাইন ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তাই রাজ্যের সাধারণ মানুষ থেকে নিয়ে বাড়ি মালিক, প্রোমোটার, ডেভেলপার, লোকাল বডিস , মিউনিসিপ্যালিটি এবং মিউনিসিপাল করপোরেশন গুলির জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করল পুর ও নগর উন্নয়ন দফতর। নির্দেশিকায় প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছে যে রাজ্য বিল্ডিং নির্মাণের ক্ষেত্রে পার্বত্য অঞ্চল ছাড়া অন্য লোকাল আরবান বোডিসে ৯ মিটার থেকে কম প্রবেশাধিকার পথ থাকবে না।
এছাড়া বাণিজ্যিক বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে সল্টলেক টাউনশিপ, নবদিগন্ত টাউনশিপ গুলিতে প্লটের আকার কোনমতই ৮ হাজার থেকে কমে অনুমতি দেওয়া হবে না। যে কোনো বিল্ডিংয়ের ছাদে সাধারণ প্রবেশাধিকার থাকবে। এছাড়া ছাদ কে উপ বিভক্ত করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে নির্দেশিকায়। ছাদের প্রবেশে কোনো ভাবেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। এছাড়া প্রবেশপথ যেমন ছাদের দরজা, করিডোর, সিঁড়ি, বারান্দা এবং রাম্প কে পরিষ্কার সীমাবদ্ধ করে রাখতে হবে।
এইসমস্ত জায়গায় আলোকিত করে সমস্ত বাধামুক্ত রেখেই চলতে হবে বলে কড়া ভাষায় জানিয়ে দিল পুর ও নগর উন্নয়ন দফতর। নির্দেশিকায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে এস্কেলেটর বা লিফট কে প্রস্থান হিসাবে বিবেচনা করা হবে না। তার জন্য লিফট,লবি এবং শাফ্ট কে ওয়েস্ট বেঙ্গল ফায়ার সার্ভিস এক্ট ১৯৫০ অনুযায়ী সজ্জিত করতে হবে। তবেই আগুন থেকে রক্ষার পথ হিসাবে বিবেচিত হবে। সমস্ত বেসমেন্টের ন্যুনতম দুটি করে প্রস্থান থাকবে। দুটি প্রস্থান বা একটি প্রস্থান এবং করিডোরের শেষ প্রান্তের মধ্যে ভ্রমণের দুরত্ব নিয়মগুলি বজায় রাখতে হবে। সমস্ত বিল্ডিং কে সম্পূর্ণরূপে ছিটিয়ে দেওয়া হবে। ন্যুনতম সিঁড়ি এবং সিঁড়ি প্রস্থ নিয়মের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী সঙ্গতিপূর্ণভাবে করতে হবে।
যদি বিল্ডিংয়ে বাণিজ্যিক ও বাণিজ্যিক ব্যবহার করার উভয়েরই ক্ষেত্রে একাধিক দখল থাকে। তাহলে নিজের প্রস্থান পথ বা সিঁড়ি কে পৃথক ভাবে করা যাবে। সিড়ি কুপ কোনো স্তরে মালামাল স্তুপের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
বিল্ডিংয়ের ব্যবহার অনুযায়ী প্যাসেজ বা করিডোরের ন্যূনতম প্রস্থ নিয়মের বজায় রেখেই থাকবে। সিঁড়ি আচ্ছাদন, লিফট মেশিন রুম, সাপোর্ট সহ ছাদের ট্যাঙ্ক, চিমনি, পরিষেবা সরঞ্জাম, টয়লেট, রিবেশযোগ্য আবরণ বা বাগান যোগাযোগ সরঞ্জাম, পরিষেবা ঘর ইত্যাদি জন্য ছাদে অনুমতি দেওয়া হবে না বলে পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে নির্দেশিকায়। এছাড়া বেসমেন্ট কোন দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ করা যাবে।
তবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়মাবলী পালন করার ক্ষেত্রে ফায়ার টেন্ডার চলাচলের সুবিধার্থে নিমলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেমন ন্যুনতম ৪.০ মিটারের একটি পরিষ্কার ড্রাইভওয় রাখতে হবে।বাধ্যতামূলক ভাবে খুলা জায়গায় পার্কিং স্পেস রাখতে হবে। ড্রাইভওয়েতে বিল্ডিং থেকে প্রক্ষেপণ স্থলের স্তরে থেকে ন্যুনতম ২.৫ মিটার উপরে ছাড়পত্র থাকতে হবে। আর যদি ড্রাইভওয়ে বা গাড়ির বারান্দা নিচে থাকলে নর্দমা বা তার উপকরণ, ভুগর্ভস্থ জলের জলাধার এবং সেপটিক ট্যাংক গুলির কে ভুগর্ভস্থ স্তরের উপরে তোলা যাবে না বলে উল্লেখ নির্দেশিকায়। ট্রান্সফরমার কে বাধ্যতামূলক ভাবে খুলা জায়গায় রেখে ন্যুনতম ৪.০ মিটার একটি ড্রাইভওয়ে প্রস্থান পথ রাখতে হবে। যাতে ট্রান্সফর্মার সঙ্গে গাড়ির বারনাদার দুরত্ব বজায় থাকে।
ফাইনাল স্টেবিলিটি রিপোর্ট বা এফএসআর , রিভাইজড ফায়ার সেফটি রেকমেন্ডেশন বা আরএফএসআর এবং ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট বা এফএসসি ও আরএফএসসি অর্থাৎ রেনেয়াল অফ ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট ছাড়া নগর স্থানীয় সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে কোনো বিল্ডিংয়ের নির্মাণের ও অধিগ্রহণের সংশপত্র বা অনুমতি দেওয়া যাবে না।
এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু বা নবিকারণের শুধু মাত্র শহরের স্থানীয় সংস্থাগুলির দ্বারা প্রযোজ্য হিসাবে বর্ণিত করে ব্যবস্থাগুলো করতে হবে। রুফ টপ, খুলা ছাদ ,টেরেস কি বিক্রি করার জন্য মিউটেশনের অনুমতি দেওয়া হবে না। আরবান লোকাল বোডিস এই বিধানগুলি লঙ্ঘন করার থেকে অনুমোদন দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এখন সমস্ত বিল্ডিং নির্মাণের অনুমতি অনলাইন সম্মতি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।
একেবারে নির্দেশিকার শেষে উর্বন লোকাল বোডিস দের সতর্ক করে তাদের কে নিয়মিত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বা অরক্ষিত বিল্ডিং গুলিকে পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে। যেমন বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স, স্টোরেজের সুবিধা, উচ্চ বৃদ্ধি বিল্ডিং এবং ক্রমাগত সম্মতি নিশ্চিত করার জন্য লাগাতার নজর চালানোর নির্দেশ দিয়েছে পুর ও নগর উন্নয়ন দফতর। যদি কে নিয়ম কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিল রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দফতর।
