ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে নিষেধ করলো মার্কিন কূটনীতিক
দেশের অভ্যন্তরে বহু অর্থনীতিবিদ ও কূটনীতিক ট্রাম্পকে সচেতন করে বলেছেন, এভাবে অকারণে ভারতের সঙ্গে শত্রুতা করে ট্রাম্প মোটেই ঠিক করছে না। যদিও এখন পর্যন্ত ট্রাম্প সেই পরামর্শকে ততটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। নয়াদিল্লির উপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি করছে আমেরিকা। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খোঁচা দিলেন প্রাক্তন মার্কিন কূটনীতিবিদ জন কেরি। তিনি বলেন, “গোটা ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যে এই দ্বন্দ্ব দুর্ভাগ্যজনক। মহান দেশগুলি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহবস্থানে আসে। ডেডলাইন বেঁধে দিয়ে জনগণকে মহত্ত্ব প্রদর্শন করে না।” প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনকালে দায়িত্ব পালনকারী এই মার্কিন কর্তা বলেন, “ওবামার আমলে সহযোগিতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে যে কোনও সমস্যার সমাধান করা হত। কিন্তু এখন একটু বেশিই চাপ সৃষ্টি করা হয়।"
প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন। তাঁর কথায়, “রাশিয়া থেকে ভারত এখনও তেল কেনা চালিয়ে যাচ্ছে। তার শাস্তিস্বরূপ বাড়তি কর বসানো হল ভারতীয় পণ্যের উপর।” অর্থাৎ এবার ভারতীয় পণ্যের উপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে আমেরিকা। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরেই দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করেছে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক। সেখানে বলা হয়, ‘গত কয়েকদিন ধরে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির বিষয়টিকে টার্গেট করেছে আমেরিকা। এই বিষয়ে আমরা নিজেদের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছি। বাজারের পরিস্থিতি এবং দেশের ১৪০ কোটি মানুষের শক্তিসম্পদের চাহিদার দিকে নজর রেখে আমদানি করা হয়।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তুলোধোনা করে বিদেশমন্ত্রকের তরফে আরও বলা হয়, ‘অন্য বহু দেশ নিজেদের জাতীয় স্বার্থের কথা ভেবে একই কাজ করছে।'
