Type Here to Get Search Results !

বসিরহাটের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের প্রধান জীবিকা গুগলি শামুক সংগ্রহ

 বসিরহাটের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের প্রধান জীবিকা গুগলি শামুক সংগ্রহ 



  প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র মানুষ বেঁচে থাকার জন্য একসময় গুগলির মাংস খেতেন। উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্তের কাছে তা ছিল ব্রাত্য। কিন্তু সময় পাল্টেছে। এখন বহু ভালো হোটেলে এই গুগলির ব্যাপক চাহিদা। বাংলার নদী ও খালবিল ঘেঁষা বিস্তীর্ণ জনপদে এখনও অনেক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন শামুক সংগ্রহ করে। এক সময় প্রাচীন সভ্যতায় মানুষের খাদ্যতালিকায় শামুকের উপস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আজও তার গুরুত্ব কমেনি। বিশেষ করে ইউরোপ সহ দক্ষিণ এশিয়ার গবেষণা কেন্দ্রে সাদা শামুকের গুণাগুণ নিয়ে চলেছে নানা চর্চা। পুষ্টিগুণ ও সহজপাচ্য হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহাকুমার স্বরূপনগর, সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ ও বসিরহাট ব্লক জুড়ে শত শত পরিবার আজও খালবিল থেকে ‘গুগলি’ শামুক ধরে বিক্রি করে দিন গুজরান করেন। 


  নদীর পাড় বা বিলের জলে ঘুরে বেড়ানো এই শামুকের বৈজ্ঞানিক নাম Helix Pomatia। এক টিন শামুকের দাম মাত্র ৮০ টাকা। তবে কলকাতা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে—ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও ত্রিপুরার বাজারে পৌঁছে এর কদর বেড়ে যায় বহুগুণে। সেখানকার আদিবাসী ও উপজাতি সম্প্রদায়ের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার। সুন্দরবনের এক শামুক সংগ্রাহক গড়িমন বিবি বলেন, “ভোর তিনটেয় নদীর পাড়ে নামতে হয়। তিন ঘণ্টা শামুক কুড়িয়ে আয় হয় মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।” আরেকজন সংগ্রাহক আয়েশা বিবি জানান, “সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের ভয়ে জল নামতে আমাদের ভয় লাগে। তবুও পেটের টানে করতে হয় এই কাজ।”

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.