Type Here to Get Search Results !

নেপালে দুর্গাপুজো - রুপ ও রীতি

 পূজা-পার্বন 


নেপালে দুর্গাপুজো - রুপ ও রীতি 



  ভারতেই নয়, দেশের বাইরেও সাড়ম্বরে পালিত হয় দুর্গাপুজো। বিশ্বের অন্যতম হিন্দু রাষ্ট্র নেপাল। এখানেও দুর্গাপুজোর রীতি প্রচলিত আছে। ১৫ দিন ধরে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয় এখানে। এর মধ্যে ৯ দিনের দুর্গোৎসবের পর দশম দিনে পালিত হয় দশাইন বা বিজয়া দশমী। ১৫তম দিনটি কোজাগরত। শরৎ পূর্ণিমার দিনে রাত জেগে কাটান এখানকার বাসিন্দারা। নেপালে দুর্গাপুজো কবে থেকে শুরু, কী এর মাহাত্ম্য, দশাইন ও কোজাগরত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল এখানে।

   

নেপালে কী ভাবে পালিত হয় দুর্গা পুজো?

  * দশাইনের প্রথম দিন কলশ স্থাপন করা হয়। এই কলশ বা ঘটকে দুর্গার শুদ্ধতার প্রতীক মনে করেন নেপালবাসী। সকাল ও সন্ধ্যাবেলা এর পুজো করা হয়। ঘটের চারপাশে যব ছিটিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখান থেকে ক্রমশ হলুদ-সবুজ ঘাস উৎপন্ন হতে থাকে।

  * দশাইনের সপ্তম দিনে আয়োজিত হল ফুলপতি। এ সময়ে বাড়ি ঘরদোর পরিষ্কার করা হয়। এর মাধ্যমেই দেবী দুর্গাকে বাড়িতে আসার আমন্ত্রণ জানান নেপালবাসী।

  * দশাইনের অষ্টম দিনই মহাঅষ্টমী। এই তিথিতে নিয়ম মেনে দেবী দুর্গার আরাধনা করা হয়। তবে দুর্গার পাশাপাশি পূজিত হন কালিও। এ সময়ে বলি দেওয়ার মাধ্যমে দেবী কালিকে জাগৃত করার প্রথা রয়েছে এখানে।

  * নবম দিনটি টিকা দিবস নামে পরিচিত। এই তিথিতে বড়রা ছোটদের তিলক লাগান। দশাইনের প্রস্তুতি তুঙ্গে থাকে এদিন। নবমীর দিনে নেপাল অস্ত্র পুজো করা হয়। ছুড়ি, কুড়ুল ছাড়াও যানবাহনের পুজো করা হয় এদিন।

  * ৯ দিনের আরাধনার পর দশম দিনে পালিত হয় দশাইন। এটিই বিজয়া দশমী। ৯ দিনের অবিরাম যুদ্ধের পর দশমীর দিনে মহিষাসুর বধ করেছিলেন দুর্গা। অধর্মের ওপর ধর্মের জয়ের প্রতীক হিসেবেই পালিত হয় দশাইন। এদিন ছোটদের টাকা, উপহার দেওয়ার প্রথা রয়েছে।

  * দশাইনের ১৫তম দিনই হল কোজাগরত অর্থাৎ 'কে জেগে আছে?' এটি শরৎ পূর্ণিমা। এদিনই কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো করা হয়। ভারতের মতোই নেপালেও মনে করা হয় যে এই রাতে লক্ষ্মী সকলের বাড়ি যান। কারও দরজা খোলা থাকলে সেই ঘরে প্রবেশ করেন, আবার বন্ধ থাকলে সেখান থেকে ফিরে যান। লক্ষ্মীকে বাড়িতে স্বাগত জানানোর জন্য এ দিন নেপালবাসীরা জেগে রাত কাটান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.