Type Here to Get Search Results !

পুরান মতে কলাবউ কিন্তু গনেশের স্ত্রী নয়


পুরান মতে কলাবউ কিন্তু গনেশের স্ত্রী নয় 



  যুগ যুগান্তর ধরে আমরা দেখে আসছি যে দুর্গাপুজোর সপ্তমীর দিন সকালে কলাবউকে স্নান করিয়ে গনেশের পাশে স্থাপন করা হয় লাল পেড়ে সাদা শাড়িতে। তাই সকলের ধারণা তৈরী হয়েছে যে কলাবউ গনেশের স্ত্রী। কিন্তু আমাদের পুরান সেই কথা বলে না। পুরাণে গণেশের স্ত্রী হিসাবে কলাবউর উল্লেখ নেই! এটি কেবল বাংলার লোকবিশ্বাসের অংশ। কলাবউ আসলে নবপত্রিকার প্রধান প্রতীক। নবপত্রিকা মানে নয়টি পাতা/গাছ। এর মধ্যে কলা ছাড়াও থাকে কচু গাছ, হলুদ গাছ, জয়ন্তী গাছ, বেলগাছ, ডালিম গাছ, অশোকের ডাল, মান কচু, ধান। এই নয়টি গাছকে এক করে শ্বেত অপরাজিতা লতা দিয়ে বাঁধা হয়। কলাবউকে ‘বউ’ বলা হলেও, অনেক পুরোহিত তাঁকে দুর্গারই এক বিশেষ রূপ বলে মানেন। বাংলার কৃষিজীবনে নতুন ধান, সবুজ প্রকৃতি, ফসলের আশা— সবকিছুকে এই রীতিতে দেবীর শক্তি হিসেবে পূজা করা হয়। সবই দেবীর কৃপা বলে মনে করা হয়। 


  তাহলে গণেশের পাশে কেন রাখা হয় তাকে? 


  এ নিয়েও নানা মত আছে। পুজোর সূচনায় গণেশের উপস্থিতি অবধারিত। তিনি নতুন শুরুর দেবতা। আর নবপত্রিকা হল কৃষি ও শস্যের দেবী। এই দুই দেবতাকে পাশাপাশি স্থাপন করার মাধ্যমে বোঝানো হয় যে, জীবনের যে কোনও নতুন যাত্রায় বা নতুন ফসল ফলানোর সময় যেন কোনও বাধা না আসে। দিনের শেষে সব কিছু যেন সফল ও সমৃদ্ধ হয়। এটি কোনও দাম্পত্য সম্পর্ক নয়, বরং এমন একটি প্রতীকী বন্ধন, যা প্রকৃতির আশীর্বাদ এবং জীবনের সাফল্যের বার্তা বহন করে। সর্বস্তরে সাফল্য কামনা করেই করা হয় এই পুজো। কিন্তু ওই যে শাড়ি-সিঁদুরে সজ্জিত বধূর মতো কলাবউ দেখে সাধারণ মানুষের কল্পনায় তাঁর সঙ্গে গণেশের দাম্পত্য সম্পর্ক গড়ে ওঠে। লোকবিশ্বাসের সেই সহজ সরল ব্যাখ্যাই তাই আজ এত জনপ্রিয় হয়ে রয়ে গিয়েছে।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.