ইউরোপের সবচেয়ে বড় একচালা দুর্গা প্রতিমা হয় বার্সেলোনায়
সুদূর স্পেনের এই শহরের সঙ্গে শুধুই ফুটবল নয়, যুক্ত আছে বাঙালি আবেগ। বার্সেলোনা বলতে সবার আগে কী মনে আসে? ফুটবল। মেসি-ইনিয়েস্তা-জাভিদের টিকিটাকা থেকে আজকের ইয়ামাল-পেদ্রিরা। ন্যু ক্যাম্পে লাল-নীল জার্সিধারীদের ম্যাজিক। আছে এল ক্লাসিকোর দ্বন্দ্ব। সুদূর স্পেনের এক শহরের সঙ্গে বাঙালি একাত্ম হয়ে যায় ফুটবলের জন্য। ‘সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল!’ সেরা শব্দটা থেকে মনে পড়ল, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের কথা। সামনেই যে শারদীয়া। শুধু ফুটবল নয়, দুর্গাপুজোও এক করে দিতে পারে সমগ্র বিশ্বকে। সত্যিকারেই তিনি জগজ্জননী। বার্সেলোনা থেকে সেই গল্পই শোনাচ্ছিলেন অর্ণব সরকার, নিবিড় দাস, সিদ্ধার্থ ঘোষরা।
তিনজনই বার্সেলোনার বেঙ্গলি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের অগ্রণী সদস্য। যে সংগঠন গত কয়েক বছর ধরে কাতালান প্রদেশের শহরে দুর্গাপুজো আয়োজন করছে।
বার্সেলোনায় যে অন্য দুর্গাপুজো হয় না, তা নয়। তবু বিসিএ-র আয়োজন অত্যন্ত ঘরোয়া, একটা পারিবারিক টান রয়েছে। ২০২২-এ মূলত সঞ্জয় দাশগুপ্ত, শ্রেয়সী নাগ, সিদ্ধার্থ ঘোষ, অনিন্দ্য সাহা- এই চারজনের উদ্যোগে পুজো শুরু। প্রথমদিকে আয়োজন ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। শোলার কাটআউটের দুর্গাপ্রতিমায় পুজো হত। যা তৈরি করা হয়েছিল যামিনী রায়ের আঁকা ছবির মতো করে। ২০২৩-এ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পেন সফরে যান। ২০২৪-এ ১৫ জন সদস্য ঠিক করেন, এবার পুজো আরও বড় করে করা যাক। যেমন ভাবা তেমন কাজ। কুমোরটুলি থেকে জাহাজপথে নিয়ে যাওয়া হল ফাইবারের মূর্তি। অর্ণববাবু বলছিলেন, “আমাদের মূর্তি তৈরি করেছেন শিল্পী মিন্টু পাল। জাহাজে করে সেটা নিয়ে আসা হয়েছিল। আমাদের মূর্তি সাড়ে দশ ফুট উঁচু। ইউরোপের আর কোথাও এত বড় একচালার প্রতিমায় পুজো হয় না।”
