আজ থেকে এক চরম দারিদ্রমুক্ত কেরল - বাম শাসিত রাজ্যের ঐতিহাসিক মুহূর্ত
এভাবেও পাড়া যায়। একটা রাজ্যকে চরম দারিদ্র মুক্ত করে তুলতে নিরলস পরিশ্রম করেছে শাসক শিবির। ১ নভেম্বর, শনিবার থেকেই চরম দারিদ্রমুক্ত হল দক্ষিণের এই রাজ্য। শনিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে সে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। কেরলের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে এই মাইলস্টোন সাফল্যের ঘোষণা করেন তিনি। বসেছিল বিশেষ বিধানসভা অধিবেশন। পিনারাই বিজয়ন বলেন, 'আজকের কেরল পিরাভি (প্রতিষ্ঠা দিবস) ঐতিহাসিক। আমরা কেরলকে ভারতের প্রথম দারিদ্র মুক্ত রাজ্য তৈরি করতে পেরেছি। এই বিধানসভা অধিবেশন অনেক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে। এবারের এই মুহূর্তটি সর্বোচ্চ মাইলস্টোন স্পর্শ করল। নতুন কেরলের জন্ম হল।' খুবই খুশি কেরলের মানুষ, খুশি সারা ভারত।
প্রথা অনুযায়ী কেরলে পাঁচ বছর অন্তর অন্তর শাসক পাল্টায় - বাম ও কংগ্রেস। এবার সেখানে বাম শাসন। ২০২১ সালে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর প্রথম অঙ্গীকারই ছিল, রাজ্যকে দারিদ্রমুক্ত করে তোলার। সে কথা স্মরণ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'নির্বাচনের সময়ে মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এটি। সেই প্রতিশ্রুতি আজ পূরণ হল।' যদিও কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন UDF সরকারের বক্তব্য, পিনারাই বিজয়ন সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর কথা বলছেন। কেরলের এই বিশেষ বিধানসভা অধিবেশন বয়কট করে বিরোধী UDF বিধায়করা। পৃথিবীতে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার এমনটা ঘটল, কোনও রাজ্য চরম দারিদ্রমুক্ত হল। এর আগে , ২০২০ সালে দেশের প্রত্যেকটি রাজ্যকে দারিদ্রমুক্ত ঘোষণা করে চিন। চরম দারিদ্র মুক্ত বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়, যেখানে নিত্য প্রয়োজন মেটাতেও সক্ষম হন প্রতিটি নাগরিক। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান কোনও কিছুরই অভাব থাকে না কোনও মানুষের কাছে।
