সম্পাদকীয়
মমতার মাস্টারস্ট্রোক - কর্মশ্রী প্রকল্প হয়েগেল মহাত্মাজি স্কিম
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসক দল চোখে চোখ রেখে লড়াই করে চলেছে। যেই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় সরকার 'মনরেগা' প্রকল্প থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম সরিয়ে দিয়েছে, সেই মুহূর্তেই 'গান্ধী' সেন্টিমেন্টকে সামনে এনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কর্মশ্রী প্রকল্পের নাম বদলে দিয়ে করলেন - মহাত্মাজি স্কিম। একেই বলে মেধাভিত্তিক রাজনীতি। বদলে গিয়েছে মনরেগা প্রকল্পের নাম। সরেছে মহাত্মা গান্ধীর নাম। তা নিয়ে এবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একইসঙ্গে বাংলার কর্মশ্রী প্রকল্পে মহাত্মা গান্ধীর নাম জুড়লেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, “মনরেগা প্রকল্প থেকে জাতির জনকের নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি এই দেশেরই মানুষ। আমি সত্যিই লজ্জিত। কী করে জাতির জনকের নামটাই ভুলে গেলেন? আমাদের এখানে কর্মশ্রী প্রকল্প আছে, এখন থেকে সেটার নাম বদলে হবে মহাত্মাজি স্কিম। এখানেও আমরা ৭৫ থেকে ১০০ দিনের কাজ দিচ্ছি। আপনারা যদি মহাত্মা গান্ধীকে সম্মান না দেন তাহলে আমরা দেব। আমরা জানি তাঁকে কী করে সম্মান জানাতে হয়!”
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ কর্মসংস্থান। এটি পশ্চিমবঙ্গের একটি গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প, যা জবকার্ড থাকা অদক্ষ শ্রমিকদের কাজ দেয়। কর্মদিবস বৃদ্ধি করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের অধীনে কাজ দেওয়া কর্মদিবসের সংখ্যা ৭৫ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার কথা বলেছেন। এই প্রকল্পের মূল বার্তা হলো কেন্দ্রীয় তহবিলের ওপর নির্ভর না করে রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগে গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে এবং মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকে সম্মান জানাবে, যা এই সিদ্ধান্তের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।
