'
কমিশনের জমিদারি?', বিএলএ ২-দের ঢুকতে না দেওয়ায় এসআইআর শুনানি বন্ধ করলেন তৃণমূল বিধায়ক
শুনানিতে বিএলএ ২ (বুথ লেভেল এজেন্ট–২) ঢুকতে না দেওয়ায় বিধায়ক অসিত মজুমদার সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন এবং শেষ পর্যন্ত শুনানি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এসআইআর (SIR West Bengal) সংক্রান্ত শুনানি চলাকালীন চুঁচুড়া–মগড়া ব্লক অফিসে তীব্র উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হল। অভিযোগ, শুনানিতে বিএলএ ২ (বুথ লেভেল এজেন্ট–২) ঢুকতে না দেওয়ায় বিধায়ক অসিত মজুমদার সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন এবং শেষ পর্যন্ত শুনানি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সকাল থেকেই ব্লক অফিসে এসআইআর–এর শুনানি শুরু হয়েছিল। সেই সময় তৃণমূলের (TMC BLA 2) বিএলএ–২ প্রতিনিধিরা শুনানির ঘরে ঢোকার চেষ্টা করলে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। খবর পৌঁছয় বিধায়ক অসিত মজুমদারের (Asit Majumder) কাছে। তিনি দ্রুত ব্লক অফিসে এসে সভাপতির ঘরে বসেই বিডিও–র (BDO) সঙ্গে কথা বলেন। পরে ফোনে যোগাযোগ করেন এসডিও–র সঙ্গেও।
অভিযোগ, বিএলএ ২-দের শুনানিতে ঢুকতে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিধায়ক স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, বিএলএ ২–রা থাকতে না পারলে শুনানি চলবে না। ফোনে এসডিও–কে বলেন, “বিএলএ ২–রা থাকবে। যদি বলা হয় ওরা থাকতে পারবে না, তাহলে সেটা লিখিত দিতে হবে। সেটা দিচ্ছে না বলেই আমরা শুনানি বন্ধ রেখেছি।” এর পরই কার্যত শুনানি স্থগিত হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, রবিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিএলএ–দের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে তাঁদের শুনানিতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “এখন যুদ্ধের সময়। এক ইঞ্চিও ছাড়বেন না। হিয়ারিংয়েও থাকবেন।”
যদিও নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এসআইআর শুনানিতে বিএলএ–দের থাকার কথা নয়; সেখানে মাইক্রো অবজার্ভার থাকার বিধান রয়েছে। তবে সম্ভাব্য অনিয়মের আশঙ্কা থেকেই অভিষেক এমন নির্দেশ দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
এর পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় একই ধরনের ঘটনা সামনে আসতে শুরু করে। হুগলির পাশাপাশি ভাটপাড়া থেকেও বিএলএ ২–দের শুনানিতে ঢোকানোর দাবিতে চাপ তৈরির খবর মিলেছে।
এ বিষয়ে বিধায়ক অসিত মজুমদারের বক্তব্য, “আমি শুনানি কক্ষে ঢুকিনি। সভাপতির ঘরেই ছিলাম। বিএলএ ২–রা ঢুকতে পারবে না— এরকম কোনও আইনি বিধান আছে কি না, সেটা দেখাতে বলেছি। নির্বাচন কমিশন বেআইনি কাজ করছে। আমরা গা জোয়ারি করিনি, প্রতিবাদ করেছি।”
