Type Here to Get Search Results !

নিরাপত্তারক্ষীকে 'মার'! জামিন অযোগ্য ধারায় মামলার পরও কোন শর্তে থানা থেকে ছাড়া পেলেন হুমায়ুনপুত্র


 নিরাপত্তারক্ষীকে 'মার'! জামিন অযোগ্য ধারায় মামলার পরও কোন শর্তে থানা থেকে ছাড়া পেলেন হুমায়ুনপুত্র


মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবি আজাদ ওরফে রবীনকে রবিবার আটক করে পুলিশ (Humayun Kabir son case)। অভিযোগ, বাবার নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করেছিলেন তিনি। শক্তিপুর থানার তদন্তে উঠে আসে আরও বেশ কিছু তথ্য, যার ভিত্তিতে বিধায়ক এবং তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) মোট ছ’টি ধারায় মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ধারা জামিন অযোগ্য (Non Bailable charge)। তবে সূত্রে খবর, তদন্তে সহযোগিতার শর্তে রবীনকে রাত ৯টা নাগাদ থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে (MLA Humayun Kabir’s Son Released)।


জানা গেছে, সরকারি কর্মীকে দায়িত্ব পালনে বাধা, অসৎ উদ্দেশে ভুয়ো নথি তৈরি-সহ একাধিক ধারায় হুমায়ুনের ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।


পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধায়কের নিরাপত্তারক্ষী জুম্মা খান নিজেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন (PSO assault case)। তাঁর দাবি, রবিবার বিধায়কের অফিসে বৈঠক চলাকালীন তিনি ছুটি চাইতে গেলে হুমায়ুনের সঙ্গে বচসা বাধে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় বিধায়ক তাঁকে চড় মারেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে হুমায়ুনের পুত্র সেখানে এসে ওই কনস্টেবলকে মারধর করেন। ঘটনার পরই কনস্টেবল থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান।


এই অভিযোগের ভিত্তিতেই শক্তিপুর থানার পুলিশ রবিবার সকালে বিধায়কের বাড়িতে যায়। সে সময় হুমায়ুন কবীর বাড়িতে ছিলেন না, তিনি ছিলেন বহরমপুরে। পুলিশ তাঁর পুত্রের খোঁজ শুরু করে এবং পরে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পাশাপাশি বিধায়ক অফিস ও বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। দু’টি পেনড্রাইভে সেই ফুটেজ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


তবে গোটা অভিযোগই উড়িয়ে দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর  (Humayun Kabir)। তাঁর পাল্টা বক্তব্য, নিরাপত্তারক্ষীই তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং তাঁকে মারতে উদ্যত হন। হুমায়ুনের দাবি, সেই পরিস্থিতিতে তাঁর ছেলে ওই পুলিশকর্মীকে অফিসঘর থেকে বের করে দেন। বিধায়কের কথায়, প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজ দিয়েই তিনি নিজের অবস্থান প্রমাণ করবেন।


ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন হুমায়ুন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পুলিশ যদি তাঁর পরিবারের সঙ্গে কোনও রকম অশালীন আচরণ করে, তবে বহরমপুর স্তব্ধ করে দেওয়া হবে এবং মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের দফতর ঘেরাও করা হবে। পরে খবর পেয়ে তিনি নিজেই শক্তিপুর থানায় পৌঁছন।


এনিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও এসেছে। তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, হুমায়ুন নিজেই নিরাপত্তারক্ষীর গায়ে হাত তোলার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের গায়ে হাত তুললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেই হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.