সম্পাদকীয়
ট্রাম্প ও মোদির ফোনালাপ কি আমেরিকা ভারতের সম্পর্ক ঠিক করতে পারবে?
এখনই তা বলা যাচ্ছে না। মার্কিন সেনেটের একাংশ ইতিমধ্যে বলা শুরু করেছেন যে ট্রাম্প নিজেই ভারতকে রাশিয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কথাটা খুবই সংগত। সেই পরিস্থিতিতেই হঠাৎ ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন। জানা যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ সময় কথা হয়। কিন্তু প্রশ্ন - দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে কি কথা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, কথোপকথনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুই দেশের বিস্তৃত বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে গতি এসেছে, তা আরও মজবুত করার বিষয়টি।
ফোনালাপে উভয় নেতা স্বীকার করেছেন যে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। হোক তা বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, শক্তি নিরাপত্তা বা উচ্চপ্রযুক্তি বিনিময়। দুই দেশই COMPACT উদ্যোগের অধীনে ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, ক্লিন এনার্জি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ প্রকল্পগুলিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আবারও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।
যতদূর জানা গেছে, আলোচনার কথাও পুতিন বা রাশিয়া প্রসঙ্গ আসে নি। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও দুই দেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়েছে। ট্রাম্প ও মোদি উভয়েই জানিয়েছেন, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যকে আরও বিস্তৃত ও টেকসই করতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও উঠে এসেছে, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ, এমনটাই কূটনৈতিক সূত্রের দাবি। তবে ভারতের উপর চাপিয়ে দেওয়া কৃষিজশুল্ক নিয়ে কোনো আলোচনা হয় নি। ফলে ভারত মার্কিন সমস্যা এখনই মিটে যাচ্ছে - এমন কথা বলা যায় না।
