Type Here to Get Search Results !

মৃত্যুর আগে স্বামী বিবেকানন্দকে শেষ কি বাণী দিয়েছিলেন গুরু রামকৃষ্ণ

 ধর্মবেত্তা 


মৃত্যুর আগে স্বামী বিবেকানন্দকে শেষ কি বাণী দিয়েছিলেন গুরু রামকৃষ্ণ 



  সেই ১৮৮৬ সাল। ভারতের ধৰ্মীয় ইতিহাসে একটা স্মরণীয় বছর। প্রয়াত হয়েছিলেন স্বয়ং রামকৃষ্ণ। কাশীপুর উদ্যানবাটীতে তখন মরণপণ রোগের সঙ্গে লড়াই করছেন যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণ। চারদিকে গভীর শোকের ছায়া। কিন্তু সেই শারীরিক যন্ত্রণার মাঝেই রচিত হচ্ছিল এক আধ্যাত্মিক ইতিহাস। মহাপ্রয়াণের মাত্র কয়েকদিন আগে প্রিয় শিষ্য নরেন্দ্রনাথের হাতে তাঁর সমস্ত আধ্যাত্মিক শক্তি অর্পণ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন ঠাকুর। যা রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দকে নিয়ে যেকোনও আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। 


   মৃত্যুর মাত্র তিন-চার দিন আগের কথা। একদিন শ্রীরামকৃষ্ণ নরেনকে নিজের কাছে ডাকলেন। নরেন গুরুর সামনে বসতেই ঠাকুর তাঁর দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন এবং গভীর সমাধিতে মগ্ন হলেন। নরেন্দ্রনাথ অনুভব করলেন, তাঁর শরীরের ভেতর যেন এক প্রবল বিদ্যুৎপ্রবাহ প্রবেশ করছে। কিছুক্ষণ পর যখন ঠাকুরের সমাধি ভাঙল, দেখা গেল তাঁর অশ্রুধারা। গদগদ কণ্ঠে শ্রীরামকৃষ্ণ নরেনকে বললেন— “আজ তোকে সব দিয়ে আমি ফকির হলাম। এই শক্তিতে তুই জগতের অনেক কাজ করবি, কাজ শেষ হলে তবে ফিরে যাবি।” নরেন্দ্রনাথের মনে তখনও সংশয় ছিল। তিনি মনে মনে ভাবছিলেন, এই চরম শারীরিক কষ্টের সময় ঠাকুর যদি নিজেকে ভগবান বলে ঘোষণা করতে পারেন, তবেই তিনি বিশ্বাস করবেন। অন্তর্যামী শ্রীরামকৃষ্ণ শিষ্যের মনের কথা বুঝতে পেরে শেষবারের মতো বলে ওঠেন— “যে রাম, যে কৃষ্ণ, সেই এবার এই শরীরে রামকৃষ্ণ— তবে তোর বেদান্তের মতে নয়।” অর্থাৎ তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর স্থূল শরীরটি অসুস্থ হলেও তাঁর ভেতরের পরমাত্মা অবিনশ্বর।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.