সম্পাদকীয়
ইউনুস চলে গেছেন সম্পূর্ণ কট্টর পন্থীদের হয়ে
হতভাগ্য বাংলাদেশের বাঙালিরা। যে বাংলাদেশের জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস তাও মুছে ফেললেন ইউনুস। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বাঙালিরা এর প্রতিবাদ শুরু করেছেন। ২১ ফেব্রুয়ারি মানেই বাঙালির আবেগ, বাঙালির ভালোবাসা। আর ইউনুস সরকার সেই ২১ ফেব্রুয়ারির ছুটি বাতিল করলেন। শুধু তাই নয়, ২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা থেকে বাদ পড়েছে সরস্বতী পুজো, জন্মাষ্টমী এবং মে দিবসের ছুটিও। শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য এই ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরবর্তী ধাপে সর্বস্তরে এই বাতিলের ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের কট্টরপন্থী নেতাদের। প্রকাশিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, নতুন বছরে মোট ছুটি রাখা হয়েছে ৬৪ দিন। যা বিদায়ী ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় ১২ দিন কম। ছুটি বাতিল হয়েছে কেবল ভাষা দিবস, সরস্বতী পুজো আর জন্মাষ্টমীতেই নয়, এছাড়াও বুদ্ধ পূর্ণিমা, মহালয়া এবং মধু পূর্ণিমাতেও থাকছে না ছুটি। মূল কথা হলো হিন্দুদের সমস্ত ধৰ্মীয় অনুষ্ঠানে ছুটি বাতিল করলো ইউনুস। তাই বলে ভাষা দিবসের ছুটিও?
কর্মদিবস বাড়ানো বা ছুটি কমানো মানে কি একটি ধৰ্মীয় সম্প্রদায়কে আঘাত করা? স্কুলে ছুটি কমানোকে কেউ কেউ ইতিবাচকভাবে দেখলেও জাতীয়, ধর্মীয় আবেগ এবং মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের দিনে ছুটি বাতিলকে অনেকেই নেতিবাচকভাবে দেখছেন। বিশেষত ২১ ফেব্রুয়ারি এবং সংখ্যলঘু সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান-পার্বণে ছুটি বাতিলকে জামাত শাসিত বাংলাদেশে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (অধুনা স্বাধীন বাংলাদেশ)-এর ছাত্রেরা বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলন দমন করতে গুলি চালায় পাকিস্তানের পুলিশ। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় বরকত, সালাম, রফিক, জব্বরদের। সেই ভাষা আন্দোলকে অস্বীকার করা মানে নিজের দেশের গৌরবের ইতিহাসকে ভুলে যাওয়া। বিশ্বের সুধী মন্ডলী ধিক্কার জানাচ্ছে ইউনুসের এই সিদ্ধান্তকে।
