Type Here to Get Search Results !

ঘুরতে ঘুরতে গ্রীন এক্সপ্রেস' এখন হাবড়ায়

 ঘুরতে ঘুরতে গ্রীন এক্সপ্রেস' এখন হাবড়ায় 



  পরিবেশকে যিনি একবার ভালোবেসে ফেলেন তিনি কখনো পরিবেশ থেকে মুখ ঘুরিয়ে থাকতে পারেন না। যেমন শ্যামলা জানা। এখন তিনি উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায়। হাবড়ায় এসে পৌঁছল গ্রিন এক্সপ্রেস। তবে এটি কোনও বিশেষ ট্রেন নয়, বরং এক অভিনব পরিবেশ রক্ষার গাড়ি। এই গাড়ির চালক কাঁথির কুলাই পদিমা নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্যামল জানা। পেশায় শিক্ষক হলেও পরিচয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে তিনি আজ পরিচিত এক পরিবেশপ্রেমী ও সমাজকর্মী হিসেবে।গাছ লাগানোই যার নেশা ও ব্রত। নিজের বেতন জমিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, রাজ্যের বাইরেও ঘুরে ঘুরে বৃক্ষরোপণ করে চলেছেন শ্যামলবাবু। তাঁর সঙ্গে সবসময় থাকে নিজের তৈরি একটি ট্রলি। সেই ট্রলির মধ্যেই থাকে বটগাছের চারা ও মাটি খোঁড়ার জন্য একটি ধাতব গাঁইতি। এই বিশেষ ট্রলির নামই তিনি দিয়েছেন ‘গ্রিন এক্সপ্রেস’। সম্প্রতি যশোর রোড সংস্কারের জন্য রাস্তার দু’পাশের বহু প্রাচীন গাছ কাটা হবে- এই খবর তাঁর কানেও পৌঁছয়। সেই প্রেক্ষিতেই এ দিন হাবড়া বিডিও অফিস সংলগ্ন যশোর রোডের ধার এলাকায় বটবৃক্ষ রোপণ করতে দেখা যায় এই প্রকৃতিপ্রেমী শিক্ষককে। 


  শ্যামলবাবুর কথায়, মানুষ যদি এখনই সচেতন না হয়, তবে আগামী দিনে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়তে হবে। তিনি জানান, জীবনে এক সময় ইচ্ছে ছিল রাজ্য-দেশের নানা জায়গায় ফ্ল্যাট বাড়ি কেনার। সেই ইচ্ছে পূরণ না হলেও বটবৃক্ষ রোপণের মাধ্যমেই তিনি তৃপ্তি খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, ভবিষ্যতে এই গাছগুলিই তাঁকে ছায়া ও আশ্রয় দেবে এবং সেই অপূর্ণ ইচ্ছার আক্ষেপও অনেকটাই ভুলিয়ে দেবে। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, ইতিমধ্যেই তিনি অসম, ত্রিপুরা, মণিপুর সহ একাধিক রাজ্যে বটগাছের চারা রোপণ করেছেন। পাশাপাশি ভারতের প্রতিবেশী দেশ নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানেও বটবৃক্ষ লাগিয়ে এসেছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য, ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলি মিলিয়ে মোট পাঁচ হাজার বটগাছ রোপণ করা। পরিবেশ রক্ষার কাজ এখানেই শেষ নয়। সমাজকে প্লাস্টিকমুক্ত করার উদ্দেশে একাধিক সচেতনতা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শ্যামল জানা। এ পর্যন্ত তিনি শুধুমাত্র বটগাছই রোপণ করেছেন ২,২৩৩টি। শ্যামলবাবুর মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন দিন দিন ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করছে, যা আগামী প্রজন্মের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। সেই কারণেই তিনি বটগাছ রোপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ এই গাছ অল্প পরিচর্যায় বড় হয় এবং দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.