বেলডাঙ্গায় ভয়ঙ্করভাবে মার খেলেন সোমা - মহিলা সাংবাদিক
সাংবাদিকদের গায়ে বিশেষভাবে কেউ আঘাত করতে চায় না। সংবিধানের চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদপত্রকে কেউ বিশেষ ঘাটায় না। কিন্তু বেলডাঙা কান্ড সব সীমাই ছাড়িয়ে গেছে। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হলেন জি–২৪ ঘণ্টা-র সাংবাদিক সোমা মাইতি। অভিযোগ, বেলডাঙায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। হাত ও পায়ে জুড়ে গুরুতর আঘাত লাগে তাঁর। অতর্কিত এই হামলার পরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন সোমা। কাঁদতে কাঁদতে সোমা বলেন, “এত বছর সাংবাদিকতা করছি, এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়িনি কখনও। দু’জন আমাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নেয়। একজন চুল ধরে টানছিল, কেউ পা ধরে, কেউ জামা ধরে টানছিল। শরীরের এখানে ওখানে হাত দিচ্ছিল। আমার মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।”এমন ভয়াবহ কাণ্ডে ভয়ে কুঁকড়ে যান সোমা দেবী। তাঁকে হসপিটালে নিয়ে গিয়ে মাথার স্কেন করা হয়।
সোমার আরও অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিল, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। তাঁর কথায়, “বারবার পুলিশকে ডাকলেও কেউ উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। যে ক’জন স্থানীয় মানুষ আমাকে বাঁচাতে এসেছিলেন, তাঁদেরও মারধর করা হয়। আমাদের ক্যামেরাম্যানের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে।” এই হামলার পটভূমিতে রয়েছে ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু। শুক্রবার সকালে মৃতদেহ গ্রামে ফিরতেই উত্তাল হয়ে ওঠে বেলডাঙা। জাতীয় সড়ক অবরোধ ও রেল রোকো কর্মসূচিতে নামেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দোষীদের শাস্তির দাবিতে সুজাপুর–কুমারপুর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র ক্ষোভ। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। মৃত শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখ (৩৭), বেলডাঙার সুজাপুর–কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। পেশায় ফেরিওয়ালা আলাউদ্দিন কাজের সূত্রে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সেখানে তাঁর থাকার ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবার ও আত্মীয়দের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়—পরিকল্পিতভাবে মারধর করে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিক হওয়ার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল। ঘটনা যাই হোক সকলেই সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলার নিন্দা করেছেন।
