সম্পাদকীয়
বিজেপির তহবিল শুধু তহবিল নয়, এ যেন টাকার পাহাড়
মেনে নিতে অসুবিধা নেই এই মুহূর্তে বিজেপি ভারতের তথা বিশ্বের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। স্বাভাবিক কারণে তাদের তহবিল যে বেশি হবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু ভাবতে অবাক লাগে যে দেশের একটা বড়ো অংশের মানুষ রাতে কিছু না খেয়ে ঘুমাতে যায় সেই দেশে শুধু রাজনৈতিক প্রচারে মুহূর্তে কয়েকশো কোটি টাকা খরচ হয়ে যায়। লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির তহবিলে জমা পড়া অনুদানের অঙ্ক এক লাফে ৮৭ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দলের তরফেই এই হিসাব দেওয়া হয়েছিল নির্বাচন কমিশনকে। সেই অর্থের ‘সদব্য়বহার’ করেছে গেরুয়া শিবির। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে শুধু নির্বাচন আর ভোটপ্রচারে বিজেপি খরচ করেছে ৩৩৫৬ কোটি টাকা! অর্থাৎ, পাঁচ বছরে ভোটে ব্যয় বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ। কারণ এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে এই খাতে ১,৩৫২ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল দলটি। একই খাতে কংগ্রেসের ব্যয় কত কোটি টাকা? কংগ্রেস এখন বিজেপির তুলনায় শিশু। সর্ব ভারতীয় দল হলেও কংগ্রেস এখন যথেষ্ট কোনায় আবাদ্ধ।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখান জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলির খরচের যে পরিসংখ্যান নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে কমিশন, তাতে বলা হয়েছে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে নির্বাচন এবং প্রচার খাতে বিজেপি ১,৭৫৪ কোটি টাকা খরচ করেছে। একই অর্থবর্ষে কংগ্রেসের এই সংক্রান্ত খরচের পরিমাণ ছিল ৬১৯.৬৭ কোটি টাকা। আর গত লোকসভা ভোটে (২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ) বিজেপি ৩৩৫৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, ধারেকাছে নেই কংগ্রেস। তাদের নির্বাচনী খরচ ৮৯৬.২২ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে লোকসভা নির্বাচন ছাড়াও আটটি (রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে) বিধানসভা নির্বাচন ছিল। এর জন্য বিজেপির মোট খরচ হয় ৩,৭৭৪.৫৮ কোটি টাকা। শুধু বিজ্ঞাপন এবং প্রচারের জন্যই খরচ করা হয়েছে ২,২৫৭.০৫ কোটি টাকা। ব্যয়ের মতোই শাসক দলের আয়ও বাড়ছে লাফিয়ে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে স্বেচ্ছাদান, ব্যাঙ্কের সুদ, দলের চাঁদা… সব মিলিয়ে আয়ের পরিমাণ ৬,৭৬৯.১৪ কোটি টাকা। বেশ বোঝাই যাচ্ছে বিজেপি এখন টাকার বিছানায় শুয়ে আছে। তবে টাকার উৎস নিয়ে কিন্তু কোনো প্রশ্ন করা যাবে না।
