বাংলাদেশকে আবার কড়া বার্তা ভারতের
বাংলাদেশ জুড়ে যে হিন্দু নিধন যজ্ঞ চলেছে, তার প্রতিবাদে একাধিকবার ভারত প্রতিবাদ জানিয়েছে। এবার ভারতের প্রতিবাদের সুর আরো কড়া। স্পষ্ট করে ভারত জানালো,
'সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বন্ধ করুন’। গত একমাসে অন্তত ৫ জন হিন্দুকে হত্যার পাশাপাশি ভাঙা হয়েছে অসংখ্য মন্দির। বাংলাদেশে বাড়তে থাকা মৌলবাদে লাগাম টানার কড়া নির্দেশ দিল ভারত। দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইউনুস সরকারকে। সংখ্যালঘুদের উপর বাড়তে থাকা হিংসার ঘটনায় শুক্রবার বাংলাদেশকে কড়া বার্তা দেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়ওসয়াল। তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর উগ্রপন্থীদের হামলার উদ্বেগজনক প্রবণতা বারবার লক্ষ্য করছি। তাঁদের বাড়িঘর ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হচ্ছে। এই ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা রুখতে দ্রুত এবং দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে হবে। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধ হিসাবে দেখিয়ে এইসব ঘটনা উড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা অপরাধীদের সাহস যোগায় এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তোলে।”
এই বার্তায় খুশি হয়েছে বাংলাদেশে বস বসবাসকারী হিন্দুরা। তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন ভারতের এই বার্তায়।
প্রসঙ্গত হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ওই দেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার শুরু হয়েছিল। আর সম্প্রতি এক ছাত্রনেতা হত্যার পরে তা ভয়ঙ্কর রুপ নেয়। যদিও বাংলাদেশ পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে ওই খুন করেছে তারই দলের লোকেরা, ওর সঙ্গে ভারতের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ গত ১৮ ডিসেম্বর মৌলবাদীরা হিন্দু যুবক দীপু দাসকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। গণপিটুনি দেওয়ার পর গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে মারা হয় দীপুকে। এই ঘটনায় শুরুতে কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি বাংলাদেশ পুলিশের তরফে। পড়ে আন্তর্জাতিক চাপের মখে গ্রেপ্তার করা হয় ১২ জনকে। এরপর ২৪ ডিসেম্বর অমৃত মণ্ডল নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়। ৩১ ডিসেম্বর দোকান বন্ধ করে ফেরার সময় খোকন চন্দ্র দাস নামে ৫০ বছরের এক ব্যক্তির উপর হামলা চালানো হয়। এভাবেই এখন পর্যন্ত ৫ জন হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে।
