'এসো বই পড়ি, বছর ভর জীবন গড়ি' - এই শ্লোগান নিয়ে বনগাঁয় নয়া রেকর্ড
আধুনিক প্রযুক্তির কারণে মানুষ বই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। ফলে মানুষের মনের সংবাদনশীলতা যাচ্ছে কমে। মানুষ সম্পূর্ণ ঢুকে পড়েছে মোবাইলের জগতে। এমন পরিস্থিতিতেই বনগাঁর গান্ধীপল্লী বনগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে শর্মা লেদার্স-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এই অভিনব বইপড়া কর্মসূচি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একই ছাদের তলায় ৮ থেকে ৮০ বছর বয়সের বইপ্রেমীদের একসঙ্গে বই পড়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হল এক অনন্য নজির। উদ্যোক্তাদের দাবি, বাংলায় এর আগে এমন কোনও রেকর্ডের দৃষ্টান্ত নেই। এসো বই পড়ি, বছর ভর জীবন গড়ি’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে একটানা বই পাঠে অংশ নেন বিভিন্ন বয়সের পাঠক-পাঠিকারা। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ-সহ নানা ধরনের বই ছিল পাঠকদের জন্য। এই বই পড়া কর্মসূচিতে যোগ দিতে শুধু বনগাঁ বা উত্তর ২৪ পরগনাই নয়, জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি নদিয়া, জোড়াসাঁকো এমনকি দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেও বইপ্রেমীরা উপস্থিত হন।
সব মিলিয়ে প্রায় ১৮০ জন পাঠক একসঙ্গে বই পড়ে এই নতুন রেকর্ড গড়েন। উল্লেখ্য, শর্মা লেদার এর আগেও বৃহৎ-আকৃতির জুতো তৈরি করে রাজ্যজুড়ে সাড়া ফেলেছিল। এবার বইপ্রেম ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সমাজ সচেতন নাগরিকরা। উদ্যোক্তাদের মতে, এই ধরনের বই পাঠ কর্মসূচি বাংলায় এই প্রথম। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে খুশি বইপ্রেমীরাও। তাঁদের মতে, ডিজিটাল যুগে বইয়ের প্রতি আগ্রহ ফেরাতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জানা যায়, শর্মা লেদার নিজেদের দোকানেও বইপ্রেমীদের উৎসাহ দিতে একটি লাইব্রেরি গড়ে তুলেছে। সেখানে জুতো কেনার পাশাপাশি বই পড়লে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দোকান মালিকের কথায়, শরীরচর্চার জন্য যেমন ব্যায়ামের প্রয়োজন, তেমনই মানসিক বিকাশের জন্য বই পড়াই একমাত্র পথ।
.jpeg)