আইপ্যাকের অফিস ও ওই সংস্থার মালিক প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানার পরে যে পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিল তা নিয়ে এবার আবার এক নতুন অবস্থা। আমরা শুনেছি ইডির তল্লাসির সময় ওই দুই জায়গাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচুর রাজ্য পুলিশ নিয়ে হাজির হন ও ইডির কাছ থেকে একটি সবুজ ফাইল সহ প্রচুর কাগজ নিজের হেফাজতে নিয়ে নেন। আর তার পরেই ইডি অভিযোগ জানান সুপ্রিম কোর্টে। এই পরিস্থিতিতেই সূত্রের খবর, কলকাতায় ইডি ও সিবিআই তথা কেন্দ্রীয় দুই তদন্ত এজেন্সির সম্ভাব্য অভিযান নিয়ে চরম উৎকন্ঠার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সূত্রের দাবি, গত কয়েক দিনে দু’শো-র বেশি তদন্ত অফিসার কলকাতায় এসেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারি হস্টেল ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিছু হোটেলে রাখা হয়েছে তাঁদের। এমনকি এও রটে গেছে যে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বড় কিছু ঘটে যেতে পারে। লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের ফ্ল্যাটে ও সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে ইডি-র তল্লাশির সময়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা সহ সিনিয়র কিছু পুলিশ অফিসার ছিলেন। ফেডারেল তদন্ত এজেন্সির কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। সেই মামলায় পুলিশ কর্তাদেরও নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাভাবিক কারণেই মনে হচ্ছে যে এই মুহূর্তে পরিস্থিতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য পুলিশের খুব অনুকূল নয়। সূত্র মারফৎ এ টুকু জানা যাচ্ছে যে, বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে ইন্ডিয়ান পলিটিকাল অ্যাকশন কমিটি তথা আইপ্যাকের বিরুদ্ধে আগামী দিনে আরও অভিযান ও ধরপাকড় হতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতীক জৈনকে ডেকে পাঠানো হতে পারে দিল্লিতে। সিবিআই বা ইডি-র অভিযান বলে কয়ে হয় না। এ ব্যাপারে আগাম কোনও ইঙ্গিতও দেয় না এই দুই তদন্ত এজেন্সি। উৎকন্ঠা ও উৎসাহ-র কারণও সম্ভবত সেই কারণেই। শাসক দলের একাংশের মধ্যে উৎকন্ঠা তৈরি হয়েছে যে কয়লা পাচার (Coal Smuggling) ও বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে তিন জন মন্ত্রীকে ভোটের আগেই গ্রেফতার করা হতে পারে। সেই সঙ্গে রাজ্য রাজনীতির এক জন বড় নেতার আপ্ত সহায়কের উপর কেন্দ্রীয় এজেন্সির নজর রয়েছে বলেও শাসক দলের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে। সবটা মিলিয়ে কিন্তু মোটেই স্বস্তিতে নেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
