সম্পাদকীয়
সিঙ্গুতের মাটিকে প্রণাম জানিয়েও প্রধানমন্ত্রী প্রায় নীরব থাকলেন ওখানে নতুন শিল্প নিয়ে
রবিবার সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ হতাশ করেছে সিঙ্গুরবাসীকে। হতাশ করেছে বাংলার অনেককেই। যে সিঙ্গুরের মাটি থেকেই মমতা ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল, সেখানে নতুন কোনো শিল্পের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী এটাই প্রত্যাশা ছিল সিঙ্গুরবাসীর। হলো না, তা হলো না। সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ ফেরানোর প্রসঙ্গ মোদী ছুঁলেন বটে। তবে শুধু ছুঁলেনই। সিঙ্গুরকে শুনিয়ে গেলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ ফেরানোর ‘পূর্বশর্ত’ হল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি। আর তা সম্ভব শুধু তৃণমূল হারলে।হুগলির সিঙ্গুরে মোদী জনসভা করবেন বলে যে দিন জানা গিয়েছিল, সে দিন থেকেই আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল মোদীর কাছ থেকে সম্ভাব্য ‘শিল্পবার্তা’ পাওয়া নিয়ে। সে জল্পনা শুধু সাধারণ জনতার মধ্যে বা সিঙ্গুরবাসীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেতারাও বার বার নানা মন্তব্যে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর জনসভা থেকেই শিল্প পুনরুজ্জীবনের আশ্বাস পাবে সিঙ্গুর তথা পশ্চিমবাংলা।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরে নতুন শিল্প নিয়ে কিছুটা নীরব থাকলেন। প্রধানমন্ত্রীর সভা আয়োজনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় হন বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য হন বা প্রথম সারিতে থাকা অন্য কোনও মুখ। সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার প্রস্তুতি পর্বে যত বার বিজেপি নেতারা মুখ খুলছিলেন, তত বারই আভাস দিচ্ছিলেন, সিঙ্গুরে মোদীর সভা থেকেই রাজ্যের শিল্পায়ন সম্ভাবনার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট এবং নির্দিষ্ট বার্তা পাওয়া যাবে। রবিবার এমনকি, প্রধানমন্ত্রীর সভামঞ্চ থেকেও রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বের মুখে সে সব কথা ফের শোনা গিয়েছিল। সভামঞ্চে মোদী পৌঁছোনোর আগে এলাকার প্রাক্তন সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ভাষণ দেন। সেই বক্তৃতা বলছিল, প্রধানমন্ত্রী যে সিঙ্গুরে শিল্প ফেরানোর বার্তা দিয়ে যাবেন, সে বিষয়ে তাঁরা প্রায় নিশ্চিত। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে পৌঁছোনোর পরে দু’জন ভাষণ দেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক। রাজ্য সভাপতি সিঙ্গুরকে ‘শিল্পের বধ্যভূমি’ আখ্যা দিলেন। না! সেই বাধ্যভূমিকে প্রধানমন্ত্রী প্রণাম করলেন ঠিক কিন্তু নতুন শিল্পের কোনো আশ্বাস দিলেন না।
