ভারত কি এবার আমেরিকার কাছে মাথা নোয়াতে বাধ্য হচ্ছে?
যে সাহসের সঙ্গে ভারত স্পষ্টত আমেরিকার সমস্ত বাণিজ্য চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং যার ফলে ভারতের উপর বিস্তর শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা, তার একটি প্রধান শর্ত ছিলো রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে হবে। এবার ভারত কি সেই শর্ত মেনে নিয়েছে? ভারতের উপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করে দিয়েছে আমেরিকা। কিন্তু কেন? আচমকা কেন এই সিদ্ধান্ত? সেই ব্যাখ্যাও নিজেই দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরিবর্তে আমেরিকা থেকে বেশি করে তেল কিনবে ভারত। এ ছাড়া আমেরিকা থেকে ৪৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৬২২ কোটি টাকার পণ্যও ভারত কিনবে কথা বলে দিয়েছেন মোদী। শুল্ক কমানোর নেপথ্যে এগুলিই অন্যতম কারণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন ট্রাম্প। সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথা হয় ট্রাম্পের। দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে কী কী বিষয়ে কথা হয়েছে, তারও একটি সারসংক্ষেপও নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ হ্যান্ডলে পোস্ট করেন ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দাবি, বাণিজ্য এবং রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে তাঁদের। এর পরেই ট্রাম্প লেখেন, “তিনি (মোদী) রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন। আমেরিকার কাছ থেকে আরও অনেক বেশি তেল কিনবে ভারত। সম্ভবত ভেনেজ়ুয়েলার কাছ থেকেও ভারত বেশি করে তেল কিনবে।” এর ফলে বাড়তের স্বাভাবিক বন্ধু রাশিয়ার সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক তৈরি হওয়ার প্রবল সাম্বাবনা।
এর পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর একটা পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে কিছুটা জল্পনা। সেখানে বিষয়টা খুব স্পষ্ট হয় নি। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর পরই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী মোদীও। শুল্ক কমানোর জন্য ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তবে রাশিয়া থেকে ভারত তেল কেনা বন্ধ করে দিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি মোদী। যেমন মন্তব্য করেননি ট্রাম্পের দাবি মতো আমেরিকা থেকে বেশি করে তেল কেনা নিয়েও। ট্রুথ সোশ্যাল’-এর পোস্টে ট্রাম্প আরও জানান, শুল্ক সমঝোতার জন্য মোদীই তাঁকে অনুরোধ করেছেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট লেখেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধার কারণে তাঁর অনুরোধে আমরা ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে অবিলম্বে একটি বাণিজ্য চুক্তি (শুল্ক সমঝোতা) সেরে নিতে সম্মত হয়েছি। এর আওতায় ভারতের উপর আমেরিকার পারস্পরিক শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশ হবে। একই ভাবে ভারতও আমেরিকার জন্য তাদের শুল্ক সংক্রান্ত এবং অন্য (বাণিজ্যিক) প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনতে উদ্যোগী হবে।” কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিষয়টা কোথায় পৌছায়, তা জানার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
