রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ন্যূনতম ব্যালেন্স জরিমানায় সাধারণ মানুষের পকেট হালকা, পাঁচ বছরে ৮,৬২১ কোটি আদায়
২০২০-২৫ অর্থবর্ষে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যালেন্স না রাখার জন্য মোট ৮,৬২১.১২ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছে। লোকসভা পিটিশন কমিটির সামনে পেশকৃত তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে, যা সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপের চরম প্রতিফলন। এই জরিমানা ক্রমাগত বেড়েছে, যা গরিব-মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।রাজ্যভিত্তিক তালিকায় উত্তরপ্রদেশ শীর্ষে রয়েছে ১,২৩৩.৯৭ কোটি টাকা জরিমানা দিয়ে। দ্বিতীয় স্থানে তামিলনাড়ু (১,০২১.৩৮ কোটি), তৃতীয় মহারাষ্ট্র (১,০৮৮.১৮ কোটি)। কর্নাটক ৫২৯.২০ কোটি এবং বিহার ৪৬৪.৫৩ কোটি আদায় করেছে। বিশেষ করে তামিলনাড়ুসহ ছয়টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে জরিমানার হার উল্টে বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও এই চাপ লক্ষণীয়, যেখানে সাধারণ গ্রাহকরা প্রভাবিত হচ্ছেন।বছরভিত্তিক পরিসংখ্যান আরও চাঞ্চল্যকর। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ১,১৪৮.৭১ কোটি থেকে শুরু করে ২০২৩-২৪-এ উঠে ২,২২৫.১০ কোটি, এবং গত অর্থবর্ষে কিছুটা কমলেও ২,০৪৫.৭৪ কোটি টাকা। যদিও ২০২০ সালের মার্চে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই) সেভিংস অ্যাকাউন্টে এই জরিমানা প্রত্যাহার করেছিল, অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি এখনও এই নীতি চালিয়ে যাচ্ছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।সংসদীয় প্যানেল এই নীতিকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করে অবিলম্বে বাতিলের আর্জি জানিয়েছে। কমিটির মতে, মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে লড়াই করা গরিব মানুষ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও ছোট ব্যবসায়ীদের উপর বারবার জরিমা আরোপ না করে ব্যাঙ্কগুলিকে তাঁদের আর্থিক স্থিতিশীলতার দিকে নজর দেওয়া উচিত। এই ‘দণ্ডমূলক’ মানসিকতা সব পক্ষের স্বার্থের পরিপন্থী। ব্যাঙ্কগুলির নৈতিক দায়িত্ব গ্রাহককল্যাণে, জরিমানা আদায়ে নয়। সরকারের হস্তক্ষেপের অপেক্ষা রয়েছে।
