অফবিট
সে একটা যুগ ছিল বটে। হরহর ছবির রমরমা মানুষ খুব ভয় নিয়ে ওই ছবি দেখতে যেতেন। ভয়ের সিনেমা দেখে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন দর্শক, তাই সিনেমাহলের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকত অ্যাম্বুল্যান্স! এমনটাই ‘রেপুটেশন’ ছিল হরর ফিল্ম ডিরেক্টর রামসে ব্রাদার্স-এর! বলিউড সিনেমার জগতে রামসে ব্রাদার্স পা রাখার আগে যে ভূতের সিনেমা একেবারেই তৈরি হয়নি, তা নয়। মহল (১৯৪৯), বিস সাল বাদ (১৯৬২) গুমনাম (১৯৬৫) প্রভৃতি সিনেমাকে দর্শক পছন্দ করেছিল বটে, তবে রামসে ভাইদের হাত ধরেই যে হিন্দি ভূতের সিনেমার ধাঁচ এক্কেবারে পালটে গেল, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। ১৯৭৮ সালে তুলসী ও শ্যাম রামসে নির্মাণ করলেন ‘দরওয়াজা’। এক বিত্তবান পরিবার তাঁদের হাভেলির দরজার পিছনে লুকিয়ে রেখেছে এক ভয়াবহ রহস্য। সে দরজা কেউ খুলে দিলে, আটকে থাকা দানব বেরিয়ে আসে, নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে চরিত্রদের।
বর্তমানের হাই-ফাই সিজিআইয়ের নাগাল তখনও পায়নি ভারতীয় সিনেমা। তাছাড়া প্রস্থেটিক মেক-আপ সে সময়ের বলিউডে বিরল। তাই লন্ডন থেকে আনানো হল মেক-আপ আর্টিস্ট ক্রিস্টোফার টাকারকে। গল্পের দানবটিকে দেখে যেন প্রকৃত অর্থেই ভয় পায় দর্শক, উদ্দেশ্য নির্মাতাদের। কিন্তু বাধ সাধল বাজেট। ক্রিস্টোফার টাকার যে পরিমাণ পারিশ্রমিক চেয়ে বসলেন, রামসে ভাইদের পক্ষে তা দেওয়া সহজ ছিল না। রীতিমতো পকেট ফুটো করেই পারিশ্রমিক মেটালেন তাঁরা। তবে টাকা যে অপচয় হয়নি, তা প্রমাণ হয়ে গেল সিনেমা রিলিজের পরেই।