ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা: বিএমএল সভাপতি মোহসিন রশিদের ঘোষণা
পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ মুসলিম লিগের (বিএমএল) সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহসিন রশিদ। সরকার প্রয়োজনীয় তদন্ত না করলে তিনি নিজেই আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নার ইউটিউব চ্যানেল ‘মানচিত্র’-এর সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন মোহসিন রশিদ। তিনি অভিযোগ করেন, ড. ইউনূসের কর্মকাণ্ড শুধু সংবিধান লঙ্ঘন নয়, বরং রাষ্ট্রদ্রোহের পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হওয়ার পর রাষ্ট্রপতিই ছিলেন একমাত্র সাংবিধানিক পদে অবস্থানকারী। সেই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ না রাখা, গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের আগে তাঁকে অবহিত না করা এবং সাংবিধানিক রীতিনীতি উপেক্ষা করা ‘গুরুতর নীতি-লঙ্ঘন’। ‘এটি শুধু সংবিধান ভঙ্গ নয়, দেশদ্রোহিতা,’ তিনি বলেন।রশিদ আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতিকে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মানসিক চাপ দেওয়া হয়েছে এবং নথিতে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হয়। রাষ্ট্রপতি সহযোগিতা না করলে দেশে সাংবিধানিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারত। ‘রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রতীক; তাঁকে সম্মান না দেখানো রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা,’ তিনি মন্তব্য করেন। একজন প্রাক্তন উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতিকে ‘চোর’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন, যিনি ইউনূসের কাছেই শপথ নিয়েছিলেন—এই বিষয়টিও তুলে ধরেন রশিদ।প্রেস উইং অপসারণ, বঙ্গভবন ঘেরাও এবং রাষ্ট্রপতি অপসারণের প্রচেষ্টা ‘রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারবিরোধী’ বলে অভিহিত করেন তিনি। এসব ঘটনায় ড. ইউনূসের সম্পৃক্ততা বা নীরব সমর্থন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত কমিশন গঠন উচিত। উপদেষ্টা পরিষদের কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানান। ‘রাষ্ট্র খেলার বিষয় নয়; ক্ষতি হয়েছে কি না, নিরপেক্ষ অনুসন্ধান দরকার,’ তাঁর বক্তব্য।সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন রশিদ। রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেলে রিভিউ আবেদন করবেন। ভবিষ্যতে অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার এড়াতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। সরকার তদন্ত না করলে নোটিশ দিয়ে নিজে মামলা দায়ের করবেন এবং ইউনূসকে পক্ষভুক্ত করবেন বলে শেষ করেন কথা।
