বাংলাদেশের বিপ্লবি ছাত্রসমাজ ভোটে হারিয়ে গেলো কেন? - প্রশ্ন উঠেছে
যে ছাত্রসমাজের শক্তিতে বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেন। উত্তাল হল রাজনীতি। আওয়ামীলীগ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেল তারা কোথায়? ভোটের ফল বের হতেই তাদের আর কোনো খোঁজ তেমনভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। শুক্রবার বাংলাদেশ নির্বাচনের যে ফলাফল প্রকাশ্যে এসেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, ২৯৯ আসনের মধ্যে যতগুলির ফলাফল প্রকাশ্যে এসেছে সেখানে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে তারেক রহমানের দল বিএনপি। অন্যদিকে, জামাত পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং ছাত্রদের তৈরি দল এনসিপি পেয়েছে মাত্র ৬টি আসন। বলার অপেক্ষা রাখে না এই ফল অত্যন্ত খারাপ। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অগ্রজ তথা এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পঞ্চগড়-১ আসনে হেরেছেন ৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে। হিন্দুদের ঝেটিয়ে ভারতে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এই সারজিস। শুধু তাই নয়, এনসিপির আর এক শীর্ষ নেতা নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি হেরেছেন ঢাকা-৮ আসনে। ঢাকার প্রাক্তন মেয়র ও মন্ত্রী বিএনপির মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদের কাছে হারতে হয়েছে তাঁকে। চট্টগ্রামে এনসিপির একমাত্র প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফের অবস্থা আরও খারাপ। চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে প্রার্থী হওয়া এই যুব নেতা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোটও পাননি। যার জেরে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে তাঁর।
বাংলাদেশের সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে একজন ছিলেন তাসনিম জারা। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ এই জারা ব্রিটেনের হাসপাতালের চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে আসেন এনসিপিতে যোগ দিলেও এই দল জামাতের সঙ্গে জোট বাঁধায় দলত্যাগ করে নির্দল হলে লড়াইয়ে নামেন। ঢাকা-৯ আসন থেকে হারতে হয়েছে তাঁকে। তবে এনসিপির চরম ব্যর্থতার মাঝেও জয়ী হয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছাত্রদের দলের এই হারের নেপথ্যে ওয়াকিবহাল মহলের মত, বিএনপির মতো দলের সামনে সাংগঠনিক ভাবে চরম দুর্বল সদ্য তৈরি হওয়া এই দল। পাশাপাশি সফল জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক দল গঠন প্রশংসিত হলেও, সেই দল জামাতের মতো মৌলবাদের ছত্রছায়ায় যাওয়ার ঘটনাকে ভালো চোখে দেখেনি অনেকেই। যার জেরে বহু যুবক এনসিপির সঙ্গ ছেড়ে বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন। কেউ আবার নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এর অন্যতম প্রমাণ তাসনিম জারা।
.jpeg)