নবান্নে মমতার তোপ: ‘টর্চার কমিশন’ নামে নির্বাচন কমিশনকে বিঁধলেন দিদি
নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের উপর তীব্র হামলা ছুঁড়েছেন। SIR-এর নামে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অভিযোগ তুলে তিনি কমিশনকে ‘টর্চার কমিশন’ ও ‘তুঘলকি কমিশন’ বলে অভিহিত করেছেন। জ্ঞানেশ কুমারকে তীরের আকারে আক্রমণ করে বলেছেন, “এরা হিটলকের মতো আচরণ করছে। বিজেপির পক্ষপাতী হয়ে এক দলকে সুবিধা দিচ্ছে।” SIR-এর প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মমতা বলেন, “বিহারে পেনশন অর্ডার, ব্যাঙ্ক-পোস্ট অফিস নথি, ফ্যামিলি রেজিস্টার, ফরেস্ট রাইটস সার্টিফিকেট গ্রাহ্য হলেও বাংলায় কেন নয়? ১৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বিকেল ৩টায় লগইন বন্ধ করে ১ লক্ষ মানুষকে দুর্ভোগ দিয়েছে। ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ, বিজেপি নেত্রী AI ব্যবহার করে বৈধ নাম মুছে দিয়েছে।” কর্মকর্তাদের উপর চাপের অভিযোগ তুলে বলেন, “হোয়াটসঅ্যাপে সকাল থেকে রাত নির্দেশের বন্যা—সাসপেন্ড ERO-দের শুনানি ছাড়াই শাস্তি। ১৬০-এর বেশি মৃত্যু, BLO-রা সুইসাইড নোটে কমিশনকেই দায়ী করেছে। জেলাশাসকদের চাকরি যাওয়ার হুমকি!” সরকার তাঁদের রক্ষা করবে, চাকরিচ্যুতি নয়—ভোটের বাইরে কাজে যোগ দেবেন। রাজনৈতিক সতর্কতা দিয়ে বলেন, “আইন মানব, কিন্তু লঙ্ঘন করলে মাঠ ছাড়ব। বিজেপি ভাবছে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় যা খুশি করবে, কিন্তু ২০২৬-এ কেন্দ্র পড়বে। মাছ-মাংস নিষেধের রাজনীতি করলে জবাব দেব। চ্যালেঞ্জ: বৈধ ভোটার রেখে অবাধ নির্বাচন করাও!” বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, “এখানে তুঘলকি ধাঁচ চলছে।” শেষে WBCS নিয়োগে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন: “দুই বছর প্রবেশনারি, তিন বছর BDO-এর পর SDO। সাসপেন্ডকৃতদের প্রমোশন দেব।” সম্মেলন শেষে দিদির কণ্ঠস্বরে আঙিনায় ভোটাররা জাগরূক হোক—এই আহ্বান।
