ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা থেকে বিচারক নিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যে শেষ করুন এসআইআর নথি যাচাই
নির্বাচন কমিশনের হাত-পা আরও শক্ত করে বাঁধল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এসআইআর-সংক্রান্ত এক জরুরি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির সমস্যা সমাধানে পর্যাপ্ত জুডিশিয়াল অফিসার না পাওয়া গেলে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে বিচারক নিয়োগ করুন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রয়োজনে সিভিল জজসহ অফিসার এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের কাজে লাগাতে পারবেন।প্রধান বিচারপতির এজলাসে রাজ্যের এসআইআর মামলার জরুরি শুনানি হয়। হাইকোর্টের স্ট্যাটাস রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২৫০ জন জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু প্রায় ৮০ লাখ নথি যাচাই করতে হবে, বাকি মাত্র চার দিন! প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত গণনা করে বলেন, "প্রত্যেকে যদি দিনে ৫০টি করে নথি যাচাই করেন, তাহলেও ৮০ দিন লাগবে।" তবু কড়া অবস্থান নিয়ে জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে।সুপ্রিম কোর্ট ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের অনুরোধ করবে, কলকাতা হাইকোর্টের আবেদন এলে তা সহানুভূতির সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করতে। এই প্রতিবেশী রাজ্যগুলো থেকে বিচারক নেওয়া সহজ হবে।রাজ্য সরকার পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষাগত সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "অন্য রাজ্য থেকে বিচারক এলে তাঁরা বাংলা বুঝতে পারবেন না।" প্রধান বিচারপতি কান্ত প্রত্যুত্তরে বলেন, "এই অবস্থায় আমাদের কিছু করার নেই। ইতিহাস বলে, এই রাজ্যগুলো একসময় একই প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ ছিল। স্থানীয় উপভাষা বা ভাষার ধরন থেকে কিছুটা বুঝতে পারবেন।"শুনানির পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জমা নথিগুলো প্রিসাইডিং অফিসাররা শুধু যাচাই করবেন। শীর্ষ আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তারাই চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ। অন্য কেউ কোনো নির্দেশ জারি করতে পারবে না।এই নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাকে আরও সংকুচিত করে, হাইকোর্টের মাধ্যমে নথি যাচাইকে অগ্রাধিকার দেয়। পশ্চিমবঙ্গে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে চলমান বিতর্কে এটি নতুন মোড় নিয়েছে।
