লজিকাল ডিসক্রিপেন্সিতে আধার, অ্যাডমিট কার্ড বৈধ! নির্বাচন কমিশনের আপত্তি খারিজ
নির্বাচন কমিশনের মুখে কার্যত ঝামা ঘষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবিকেই মান্যতা দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর (SIR) মামলার শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানাল, লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে ভোটারদের আধার কার্ড এবং মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের যেকোনো একটিকে প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণ করতেই হবে। ৪ ফেব্রুয়ারি শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী ঠিক এই পয়েন্টেই প্রশ্ন তুলেছিলেন।নির্বাচন কমিশন এবং মামলাকারীদের আপত্তি খারিজ করে আদালত বলল, দেশের যেকোনো প্রান্তে অবৈধ বাংলাদেশি ধরা পড়লে তার কাছে আধার কার্ড পাওয়া গেলেও তা জাল বলে অভিযোগ উঠতে পারে, কিন্তু এখনই তা বাতিল করা যাবে না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এই অভিযোগ খারিজ করেন। বিচারপতি বাগচী বলেন, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আলাদা তদন্তের আবেদন করা যেতে পারে বা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন পরিবর্তনের দাবি জানানো যায়। প্রধান বিচারপতি যোগ করেন, এখন এর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নয়। আধার পরিচয়পত্র হলেও নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়—এটাই আগের রায়ে বলা হয়েছে।শুনানির পর তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনকে তীব্র নিশানা করে। দলের টুইটে বলা হয়েছে, ‘নির্যাতন কমিশন’ যে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত শুরু করেছিল, সুপ্রিম কোর্ট তা ব্যর্থ করে দিয়েছে। আধার, মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করতেই হবে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে জমা নথিপত্র বৈধ হবে। এই নির্দেশ অন্যায়ভাবে কণ্ঠরোধের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোর্টের ভূমিকার প্রশংসা করেন। SIR প্রক্রিয়ায় লজিকাল ডিসক্রিপেন্সিতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। কোর্ট ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং প্রয়োজনে ওড়িশা-ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারক নিয়োগের অনুমতি দিয়েছে। এসআইআর বিলম্বিত হলে নির্বাচন স্থগিত হতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছে আদালত
