'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ করে দিলো ইরান - এবার?
'হরমুজ প্রণালী'কে বলা হয়,'তৈল ধমনি'। আর তা যদি বন্ধ হয় তাহলে ভারত সহ ভয়ঙ্কর সংকটে পড়বে বিশ্বের বহু দেশ। আর সত্যি সত্যি তা বন্ধ করে দিয়ে হুঙ্কার দিয়েছে ইরান। ইরান বলেছে - হরমুজে জাহাজ দেখলেই তারা জ্বালিয়ে দেবে। তেহরানের এই হুমকির পরই দুশ্চিন্তার কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে ভারতের আকাশে। ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। মনে করা হচ্ছিল, যে কোনও সময় বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জলপথ বন্ধ করতে পারে তেহরান। সেটাই সত্যি হল। কিন্তু ইরানের এই পদক্ষেপ কেন ভারতের জন্য চিন্তার? ভারত সরাসরি ইরান থেকে খুব বেশি তেল আমদানি না করলেও ভারতকে নিজের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি তেল বাইরে থেকে কিনতে হয়। এই আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। এ ছাড়াই এই মুহূর্তে ভারত কিছুটা ঢলে পড়েছে ইজরাইলের দিকে।
আন্তর্জাতিক তৈল কম্পানির সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব, সংযুক্ত আমিরশাহি, কুয়েতের মতো দেশ থেকে দিনে আসে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল। শুধু তা-ই নয়, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশও এই পথে আমদানি করা হয়। ফলে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ থাকলে পোট্রোপণ্যের জোগান আটকাবে। ফলে বাড়তে পারে দাম। এর জেরে বিপাকে পড়তে পারে ভারত। এক সরকারি আধিকারিকের দাবি, আপাতত দেশে ১০ থেকে ১৫ দিনের অশোধিত তেল মজুত রয়েছে। রয়েছে ৭ থেকে ১০ দিনের চাহিদা পূরণের মতো শোধিত জ্বালানিও। স্বল্প মেয়াদে হরমুজ বন্ধ থাকলে তেমন কোনও চিন্তা নেই। যদিও পণ্য পরিবহনের জাহাজ ভাড়া ও বিমার খরচ বৃদ্ধি পাবে। ফলে চড়বে আমদানি খরচও। কিন্তু দীর্ঘদিন হরমুজ বন্ধ থাকলে ভারতের উপর প্রভাব হবে আরও গুরুতর। ধাক্কা দেবে সিএনজি এবং রান্নার গ্যাসের আমদানিকে।
