মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ - তেলের দাম বাড়া শুরু করেছে
যা ভাবা গিয়েছিল, তাই ঘটছে। তেলের দাম বাড়া শুরু করেছে। যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তেলের দাম যে কোথায় যাবে বলা মুশকিল। জানা গিয়েছে, সোমবার বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট-এর ব্যারেল প্রতি দাম পৌঁছল ৮০ মার্কিন ডলারের উপরে। শুক্রবার এই দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭২.৯ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ দুই দিনে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম প্রায় ১০ মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের হিসেব বলছে, ব্যারেল প্রতি ১০ মার্কিন ডলার বৃদ্ধি ভারতের বার্ষিক আমদানি খরচ বাড়াবে ১৩ থেকে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ভারতীয় টাকায় ১ হাজার ১৮৮ কোটির বেশি।ইরান-আমেরিকার যুদ্ধের অশনির মাঝেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে গত দু মাসে তেল সরবরাহ বাড়িয়েছিল ভারত। এবার ধাক্কা খেতে চলেছে ভারতের ৫০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল। বিপর্যস্ত LNG, LPG সাপ্লাই চেন।
হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে ভারতে পৌঁছয় মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ এলএনজি। অপরিশোধিত তেলের মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ ভারতকে বিশ্ব বাজার থেকে আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে ৪০ শতাংশই আসে যুদ্ধবিধ্বস্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে। গত দুই মাসে তেল আমদানির নিরিখে হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরতা পৌঁছেছে ৫০ শতাংশে। সারা পৃথিবীর সমুদ্রপথে তেল পরিবহনের ২০ শতাংশ সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। আমেরিকা থেকে তেল আমদানি বাড়াতে বাধ্য ভারত ?
ভারতের হাতে ৭৪ দিনের তেল মজুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় পূর্বের সমুদ্র পথ ছাড়া তেল সরবরাহের বাকি রাস্তা বিপর্যস্ত। ভেনেজুয়েলার তেল ভারতকে বিক্রি করা হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই পথ খুলতেই কি ইরান আক্রমণ করে ঘুরিয়ে হরমুজ প্রণালী রুদ্ধ করার ব্লু প্রিন্ট আমেরিকার? সূত্রের খবর, আমেরিকা, ভেনিজুয়েলার মত ল্যাটিন আমেরিকা, পশ্চিম আফ্রিকা থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর ভাবনা চিন্তা করছে নয়া দিল্লি।
