মাত্র ৪৫ দিনে কি ৭ম পে কমিশন লাগু করা সম্ভব, না এটা নিতান্ত ললিপপ - প্রশ্ন তৃণমূলের
সোমবার পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবার তারা ক্ষমতায় আসলে রাজ্যে ৭ম বেতন কমিশন লাগু করবে ও তা ৪৫ দিনের মধ্যে চালু করবে। এর বাস্তবতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। শাহের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি প্রভাবিত সংগঠন ‘সরকারি কর্মচারী পরিষদ’। কিন্তু বাম প্রভাবিত রাজ্য কো অর্ডিনেশন কমিটি এবং তৃণমূল প্রভাবিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন এই ঘোষণাকে ললিপপ দেখানো বলে পাল্টা তোপ দেগেছেন। রাজ্য কো অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি ত্রিপুরাতেও এই জাতীয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপির ডবল ইঞ্জিনের সরকার। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তা আদতেও বাস্তবায়িত হয়নি। উলটে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের যে বিধিবদ্ধ পেনশন ব্যবস্থা ছিল, তা বন্ধ করে নয়া পেনশন ব্যাবস্থা চালু করা হয়েছে। ফলে সেই রাজ্যের কর্মীরা সমস্যায় পড়েছেন। পাশাপাশি তিনি আরও প্রশ্ন করেন, সপ্তম পে কমিশন চালু করার আগে কর্মীদের ৪০ শতাংশ মহার্ঘভাতা বকেয়া রয়েছে। তার কী হবে? এছাড়া একটা পে কমিশন চালু করতে গেলে অনেক দিক খতিয়ে দেখার বিষয় রয়েছে, তা মাত্র ৪৫ দিনে সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
আবার তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি নিরুপম মুস্তাফি বলেন, “রাজ্যে মানবিক সরকার রয়েছে। তারা ইতিমধ্যে পে কমিশন ঘোষণা করে দিয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের ক্যাশ লেস হেলথ স্কিম চালু করেছে। একইসঙ্গে বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যে যখন পেনশন ব্যাবস্থা উঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখন এই রাজ্যে বিধিবদ্ধ পেনশন ব্যাবস্থা চালু রাখা হয়েছে। একইসাথে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও অনেক সু ব্যবস্থা চালু আছে। তাই এই রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা অমিত শাহর এই ললিপপ খাবে না।” অপরদিকে শাহের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি প্রভাবিত সংগঠন সরকারি কর্মচারী পরিষদ। সংগঠনের জেলা সম্পাদক দেবাশিস সরকার বলেন, “যদি সদিচ্ছা থাকে, তবে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন লাগু করা সম্ভব। নইলে ৪৫০ দিনেও তা হবে না।”
