গ্যাস সরবরাহে কেন্দ্র জারি করলো 'এসমা'
মধ্য প্রাচ্যের যুদ্ধ নাড়িয়ে দিয়ে গেছে বিশ্বের বহু দেশকে। ভারতের উপর পড়েছে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব। ইরান ভারতের জন্য হরবুজ প্রণালী বন্ধ করায় পেট্রলিয়ান জাত দ্রব ভারতে প্রবেশ করত পারছে না। গভীর সংকটে ভারত। আগামী দিনে সংকট আরও গুরুতর হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় 'অতি প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ আইন' অর্থাৎ 'এসমা' জারি করল কেন্দ্র। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সরকার। বিজ্ঞপ্তি জারি করে সাফ বলে দেওয়া হল, এবার থেকে গ্যাসের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মোদি সরকার আগেই জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইচ্ছামতো গ্যাস বুকিং করা যাবে না। প্রথমে বলা হয়, ২১ দিন অন্তর অন্তর গ্যাস বুক করা যাবে। মঙ্গলবার সেই নিয়মও বদলে বলা হয়েছে, গ্যাস বুকিং করতে হবে অন্তত ২৫ দিনের ব্যবধানে। কেন্দ্রের দাবি, এলপিজি গ্যাসের বাড়তি মজুত এবং কালোবাজারি রুখতেই বুকিং-সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কাদের গুরুত্ব দিয়ে আগে গ্যাস সরবরাহ করা হবে তার নির্দেশিকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
* যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও স্বাভাবিক থাকবে পিএনজি। যে গ্যাস সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়ির রান্নাঘরে পৌঁছায়, সেই পরিষেবায় প্রভাব পড়বে না।
* সিএনজি পরিষেবা বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে ১০০ শতাংশ বজায় রাখা হবে। যানবাহন, অটো এবং গণপরিবহনে গ্যাস সরবরাহ চলবে।
* গৃহস্থালির গ্যাস সরবরাহে কোনও সমস্যা হবে না।
* শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহৃত গ্যাসের বরাদ্দ কমানো হতে পারে। চা শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রে গত ৬ মাসে যে হারে গ্যাস ব্যবহৃত হয়েছে সেটার ৮০ শতাংশ সরবরাহ করা হবে।
* সার উৎপাদন সংস্থার ক্ষেত্রে বরাদ্দ করা হবে গত ছ’মাসের ৭০% গ্যাস।
* তেল শোধনাগার সরবরাহ করা হবে ৬৫% গ্যাস।
* রেস্তরাঁগুলির জন্য বরাদ্দ গ্যাসের সরবরাহ নির্ধারণ করার জন্য পৃথক কমিটি গড়া হচ্ছে।