"কর্মফল থেকে কেউ পালাতে পারে না " - স্পিকার ওম বিড়লার উদ্দেশ্যে সাংসদ মহুয়া
এই মুহূর্তে সাংসদ উত্তাল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পদত্যাগের দাবিতে। তার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন কংগ্রেস। প্রথমে তৃণমূল তা সমর্থন না করলেও পরে বিরোধী ঐক্যর স্বার্থে তা সমর্থন করে। অনাস্থা প্রস্তাবের বিতর্কে অংশ নিয়ে পুরনো সব রাগ ঢেলে দিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। মঙ্গলবার লোকসভায় দেওয়া বক্তৃতায় মহুয়া বলেন, “এ যেন ঈশ্বরের বিচার—যে চেয়ার আমাকে বহিষ্কার করেছিল, সেই চেয়ারের বিরুদ্ধেই আজ আমি অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনা শুরু করছি।” বিরোধীদের পক্ষ থেকে স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। লোকসভায় মূলত এ ব্যাপারে প্রস্তাব আনে কংগ্রেস। শুরুতে তাতে সায় দেওয়ার ব্যাপারে ইতস্তত করেছিল তৃণমূল। কিন্তু পরে বিরোধী ঐক্যের কথা মাথায় রেখে স্রোতে গা ভাসায়। এই প্রস্তাবে সমর্থন করেন ১১৮ জন সাংসদ।
এদিন মহুয়ার শরীরী ভাষায় ছিল প্রবল উত্তেজনা। তিনি যেন এই দিনটার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন। বক্তৃতার শুরুতেই মহুয়া বলেন, তাঁকে অন্যায়ভাবে ‘উইচ-হান্ট’ করা হয়েছিল এবং যে এথিক্স কমিটি তাঁকে বহিষ্কার করেছিল তার সেই ক্ষমতাই ছিল না। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও তাঁকে দেওয়া হয়নি। লোকসভা থেকে বহিষ্কার করলেও মহুয়া ফের কৃষ্ণনগর থেকে জিতে সাংসদ হয়েছেন। তার পর টেবিল উল্টে দেওয়ার জন্য যেন তক্কে তক্কে ছিলেন। মঙ্গলবার সেই সুযোগ এসে যায়। মহুয়ার কথায়,“কর্মফল থেকে কেউ পালাতে পারে না। আজ সেই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনাই আমি শুরু করছি।” লোকসভায় তাঁর বক্তৃতায় মহুয়া অভিযোগ করেন, স্পিকার ওম বিড়লা বিরোধী দলের সাংসদদের কথা বলতে দেন না এবং বারবার তাঁদের মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি সংসদ টিভিতেও বিরোধীদের বক্তব্য দেখানো হয় না বলে মহুয়া দাবি করেন। তিনি বলেন,“স্পিকার বারবার সংসদের মর্যাদার কথা বলেন। কিন্তু এখন এমন অবস্থা হয়েছে—স্পিকার সংসদে ঢুকলেই মর্যাদা যেন বেরিয়ে যায়।”