সামনেই 'রামনবমী'! আর রামনবমী মানেই একটা ভয়ের পরিবেশ। গত কয়েক বছর ধরেই রামনবমীতে থাকে টান টান উত্তেজনা। যেকনো মুহূর্তে একটা সম্প্রদায়িক সংকট দেখা দিতে পারে। প্রশাসনের মতে, অতীতে এই উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আগেভাগে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর ২৬ মার্চ রাম নবমী পালিত হবে, আর সেই দিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য শোভাযাত্রা বের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার পুলিশ সুপার ও শহরের কমিশনারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রয়োজন মনে হবে, সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। এক পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, নির্বাচন ও ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার কারণে এ বছর পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। তাই যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এ বছর সামনেই ভোট। রামনবমীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরী করে যাতে কেউ ভোটে লাভ নিতে পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। ২০২৩ সালে হাওড়ায় রাম নবমী উপলক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, আর গত বছরও কিছু এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছিল এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে সময় লেগেছিল। পুলিশের দাবি, শোভাযাত্রাগুলি যাতে নির্দিষ্ট ও অনুমোদিত রুট মেনেই চলে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি, শোভাযাত্রায় কোনও ধরনের অস্ত্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে রাম নবমী উদ্যাপন নিশ্চিত করতেই প্রশাসন এ বছর আগেভাগেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে।