যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কথার সরাসরি বিরোধিতা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই ব্যাপারে অমিত শাহ কিছুই জানেন না। ঘাটাল মাস্টার প্লানের কোনো টাকায় রাজ্য দিচ্ছে না। ফি বছর বর্ষায় প্লাবিত হয় ঘাটাল। ভোগান্তির শিকার হন গ্রামবাসীরা। ভোট আসলেই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান (Ghatal Master Plan)। আশ্বাস দেন রাজনীতির কারবারিরা। তবে আশ্বাস বাস্তবায়িত হয় না। যদিও বর্তমানে রাজ্য সরকারের তরফে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অমিত শাহের (Amit Shah) ডেবরায় নির্বাচনী প্রচারেও উঠল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান প্রসঙ্গ। অমিত শাহ বলেন, “নরেন্দ্র মোদীজি এই প্রকল্পের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছিলেন। ৬০ শতাংশ অর্থ কেন্দ্রীয় সরকার দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল সরকারই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানকে আক্ষরিক অর্থে জঞ্জালে পরিণত করেছে। আপনারা রাজ্যে বিজেপির সরকার আনুন, আমি কথা দিচ্ছি মাত্র এক বছরের মধ্যে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে এই অঞ্চলের নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে দেব।”
পালটা আবার এই ইস্যুতে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তিনি বলেন, “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান সম্পর্কে উনি জানেন না। রাজ্য টাকা দিয়েছে। সেটা জানতে হবে। খবর রাখে না কেন্দ্রীয় সরকার। আমি দেবের প্রচারে গিয়ে বলেছিলাম, কেন্দ্র না দিলে আমরা করব। অমিত শাহ সেটা জানেন না।” উল্লেখ্য, ঘাটাল মূলত শীলাবতী, কংসাবতী এবং দ্বারকেশ্বর নদের শাখা নদী ঝুমির লীলাভূমি হিসাবে পরিচিত। তখনকার আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলস্বরূপ স্থানীয় ভূস্বামীরা এই নদীগুলির বন্যা ঠেকাতে সার্কিট বাঁধ দিয়ে নিজেদের জমিদারিতে নিচু এলাকাগুলিকে বন্যা থেকে বাঁচিয়ে আবাদি জমি বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। সেই জমিদারি জমানা আর নেই। কিন্তু জমিদারি বাঁধগুলি আজও রয়ে গিয়েছে।