অতিরিক্ত উৎপাদন এখন সুন্দরবন অঞ্চলের কৃষকদের কাছে আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে উঠেছে
এ বছর সাজনে ডাটার প্রচুর ফলন হিঙ্গলগঞ্জ ও হাসনাবাদ জুড়ে। প্রচুর সাজনে ফলন দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। কিন্তু এটাই কাল হয়ে গেলো কৃষকদের কাছে। ৫ টাকায় সজনে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন হিঙ্গলগঞ্জ ও হাসনাবাদ এলাকার বিস্তীর্ণ জমি জুড়ে এ বছর সজনে ডাটার বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টি এবং হাইব্রিড প্রজাতির ব্যবহারের ফলে উৎপাদন গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। ফলে মাঠে মাঠে এখন সজনে গাছ ভরে রয়েছে ডাটায়। কিন্তু এই অতিরিক্ত ফলনই এখন চাষিদের কাছে আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম একেবারে তলানিতে নেমে এসেছে।
বর্তমানে মাত্র ৫ টাকা কেজি দরে সজনে ডাটা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা, যা উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও কম বলে দাবি তাদের।এলাকার বহু ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি জানিয়েছেন, সার, শ্রমিক, পরিবহন—সব মিলিয়ে যে খরচ হয়েছে, সেই তুলনায় এই দাম সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। অনেকেই বাধ্য হয়ে ক্ষেতেই ফসল ফেলে রাখছেন বা কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন, যাতে অন্তত কিছু টাকা হাতে আসে। এমন পরিস্থিতিতে মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সাধারণত এই সজনে কিনে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে থাকেন। কিন্তু এ বছর অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে পাইকারি বাজারেও চাহিদা কমে গেছে। ফলে ব্যবসায়ীরাও বড় পরিমাণে সজনে কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে চাষিদের দুর্দশা আরও বেড়েছে। চাষিদের একাংশের মতে, যদি সংরক্ষণ ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ থাকত, তাহলে এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান সম্ভব হতো।
