বিনোদন
সুর সম্রাজ্ঞীর ৯২ বছরের জীবন, যেন এক চলমান লড়াই
চলে গেলেন সুরের জগতে ধ্রুবতারা সম্রাজ্ঞী আশা ভোসলে। কিন্তু তাঁর ৯২ বছরের জীবনে ছিল দীর্ঘ লড়াই। বাবার অকাল প্রয়াণের পর মাত্র ১০ বছর বয়স থেকেই দিদি লতা মঙ্গেশকরের হাত ধরে পরিবারের হাল ধরতে পেশাদার সংগীত জগতে পা রাখেন তিনি। দিদির বিপুল খ্যাতির আড়ালে নিজের জায়গা তৈরি করাটাই ছিল তাঁর জীবনের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ। ১৯৪৮ সালে ‘চুনরিয়া’ ছবিতে প্রথম হিন্দি গান গাওয়ার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি পরিবারের অমতে গিয়ে লতা মঙ্গেশকরের সেক্রেটারি ৩১ বছর বয়সী গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেছিলেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবারের সঙ্গে তাঁর সাময়িক দূরত্বও তৈরি হয়েছিল। তবে সেই দাম্পত্য সুখের হয়নি। দুই সন্তানসহ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামীর ঘর ছেড়ে তাঁকে বেরিয়ে আসতে হয়েছিল চরম লাঞ্ছনা সহ্য করে। সেই কঠিন সময়ে গানই ছিল তাঁর একমাত্র আশ্রয় এবং তিন সন্তানকে মানুষ করার হাতিয়ার।
দীর্ঘ বিরতির পর আশার জীবনে বসন্ত হয়ে আসেন সুরের জাদুকর রাহুল দেব বর্মন । বয়সে আশার চেয়ে ৬ বছরের ছোট রাহুল ছিলেন তাঁর গানের গুণমুগ্ধ। ১৯৮০ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সুরের এই জুটি ভারতীয় সংগীতকে আধুনিকতার নতুন দিশা দেখিয়েছিল। কিন্তু ১৯৯৪ সালে আর ডি বর্মনের অকাল প্রয়াণ আশাকে ফের একা করে দেয়।রাহুল দেব বর্মনের সঙ্গে আশা ভোঁসলের জুটি ভারতীয় সংগীতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল। ক্যাবারে থেকে পপ, জ্যাজ থেকে ব্লুজ— সব মাধ্যমেই তাঁর কণ্ঠ ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ‘দম মারো দম’ বা ‘পিয়া তু আব তো আজা’-র মতো গানে যেমন তিনি শ্রোতাদের নাচিয়েছেন, তেমনই আবার ‘উমরাও জান’ ছবিতে তাঁর গজল বুঝিয়ে দিয়েছে ধ্রুপদী সংগীতে তাঁর দখল কতটা গভীর। ২০১২ সালে তাঁর একমাত্র কন্যা বর্ষা ভোঁসলে আত্মহত্যা করেন। এরপর ২০১৫ সালে তাঁর বড় ছেলে হেমন্ত ভোঁসলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। একের পর এক এমন ব্যক্তিগত শোক সত্ত্বেও তিনি ভেঙে পড়েননি। মঞ্চে উঠেছেন, দর্শকদের গান শুনিয়েছেন এবং নিজের পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছেন। তিনি এখন আর নেই আমাদের মধ্যে।
