৪ মে কি হতে চলেছে - একটা বিশেষ প্রতিবেদন
আর কয়েক ঘন্টা পরেই খোলা হবে। EVM মেশিন। তারপরে ধীরে ধীরে পরিষ্কার হবে বাংলার জনাদেশ। তার আগে অনেক ভোট কুশলি কতগুলো প্রশ্ন ও উত্তর সামনে এনেছেন। প্রথমবার হয়ে গেল একের পর এক রেকর্ড। হিংসার ছবি যে বাংলায় সবার চেনা এবারের নির্বাচনে দুই দফার কোনওটাতেই একটিও আসেনি মৃত্যুর খবর। এবার সবথেকে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল বাংলায়। সোজা কথায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায় ইতিমধ্যেই তৈরি করে ফেলেছে। এবার বিরাট মাত্রার ভোটদান দেখেছে গোটা বাংলা। স্বাধীনতার পর গোটা দেশের নিরিখেই তৈরি হয়েছে নতুন রেকর্ড। ২০১১ সালে ৮৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮২.৬৬ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮১.৫৬ শতাংশ ভোট পড়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে সেই সমস্ত পরিসংখ্যান ম্লান হয়ে গিয়েছে। এবার ভোটদানের হার ৯২ শতাংশ ছাপিয়ে গিয়েছে। যে কটা জায়গায় রিপোল হয়েছিল সেখানে ভোটদানের গ্রাফ উপরের দিকে। প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ২১ লক্ষ ১১ হাজার বেশি ভোট পড়েছে (প্রতি বিধানসভায় গড়ে ১৩,৮০০ ভোট বেশি)। দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোট বেড়েছে ৯ লক্ষ ৮ হাজার। প্রতি আসনে গড়ে ৬,৪০০ বেশি।
বিপুল ভোটবৃদ্ধির নেপথ্যে কাতারে কাতারে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফিরে ভোটদান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হিসেবে কাজ করেছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। প্রথম দফার ১৫২ আসনে গ্রামীণ ভোটার ৮১ শতাংশ, যেখানে মুসলিম ২৯ শতাংশ, তফসিলি জাতি ২৪ শতাংশ ও উপজাতি ৯ শতাংশ। অন্যদিকে দ্বিতীয় দফার ১৪২ আসনে গ্রামীণ ভোটার মাত্র ৫৩ শতাংশ, অর্থাৎ শহুরে প্রভাব বেশি। এখানে মুসলিম ২৫ শতাংশ, তফসিলি জাতি ২৩ শতাংশ এবং উপজাতি ২.৫ শতাংশ। এই জনবিন্যাসের পার্থক্যও প্রধান দুই দলের ভোটপ্রাপ্তিতে কতটা ছাপ ফেলে সেটা দেখার। একইসঙ্গে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ-হুমায়ুনের দলও কতটা ছাপ ফেলে সেটা দেখার। বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি মূলত শাসকদলের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া জনরোষের পাশাপাশি বেশ কিছু নির্দিষ্ট ইস্যুকে মূলধন করে ময়দানে নেমেছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া যে বিজেপির পালে সবচেয়ে বড় হাওয়া জোগাচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আরজি কর, কসবা ল কলেজের মতো স্পর্শকাতর ঘটনা নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে তৃণমূলকে মারাত্মক চাপে রেখেছে। একইসঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা গুচ্ছ গুচ্ছ দুর্নীতির ইস্যু, ২৬ হাজার চাকরি বাতিলও সমাজের বুকে তীব্র হিন্দোল তুলেছে
