শুভেন্দু অধিকারী সহ কয়েকজনকে শপথবাক্য পাঠ করালেন রাজ্যপাল
অবশেষে প্রবল উন্মাদনার মাঝে রাজ্যের ৯ম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর সঙ্গে আরো কয়েকজন মন্ত্রী হিসাবে আজ শপথ নিয়েছেন। গেরুয়া পোশাকে শপথ নেন শুভেন্দু। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আর এন রবি। মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, অশোক কীর্তনীয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু শপথ গ্রহণ করেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাঙালিয়ানার ছোঁয়ায় সেজে উঠেছে ব্রিগেড চত্বর। কীর্তন, ছৌ নাচ, বাউল গান, ধামসা-মাদলের তালে ভরে ওঠে ব্রিগেড। মঞ্চে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি। সঙ্গে দক্ষিণেশ্বর, দুর্গার ছবির কোলাজ। জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে মুখরিত ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বহু ভিভিআইপি। মঞ্চে ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শেষযাত্রার সঙ্গী শিলিগুড়ির মাখনলাল সরকার। দিল্লিতে দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন কংগ্রেস সরকার। সেই মাখনলাল সরকারকে মঞ্চে সংবর্ধনা জানান মোদি। তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণামও করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য রাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ মুখ। বাম আমলে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনিই। সিপিএমের গড় পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিরোধীরা মাথা তুলে দাঁড়ায়। বাম সরকারের পতনের অন্যতম কারণ ছিল নন্দীগ্রাম আন্দোলন। সেকথা মেনে নেয় রাজনৈতিক মহল। ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য রাজনীতিতে জায়গা পোক্ত করেছিলেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামের মাটিতে পরাস্ত করেছিলেন। এবার নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। ঘরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাবেন, সেই কথা জোর গলায় দাবি করেছিলেন শুভেন্দু। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের পতন হয়।
