Type Here to Get Search Results !

পুজোর সময় আদিবাসীরা করেন ‘হুদূড়দূর্গা’ পুজো

 পূজাপার্বন 


পুজোর সময় আদিবাসীরা করেন ‘হুদূড়দূর্গা’ পুজো



  আদিবাসী জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে প্রকৃতি । বিশেষ করে পাহাড়–পর্বত–অরণ্য। অরণ্যের পশু-পাখি ইত্যাদি। চাষবাস বর্তমানে অধিকাংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবিকা হলেও অনেক উপজাতি এখনও যাযাবর এবং শিকার-নির্ভর। সিং, বোঙ্গা, মারাং বুরু, জাহের এরা, জাহিয়া বুরু, গোঁসায় এরা — এই সমস্ত অদিবাসী দেবতা যেমন পূজিত হন তেমনই চাষবাস, জন্মমৃত্যু, সমস্ত সামাজিক কাজকর্মেই বিভিন্ন দেবতা পূজিত হন। প্রতি গ্রামেই কোনও না কোনও দেবতার থান থাকে। সব পূজাকে ঘিরেই আদিবাসীরা উৎসবে মেতে ওঠেন। ফসল বা শস্যকেন্দ্রিক উৎসবও অসংখ্য, আবার ‘ঘোটুল’-এর মতো সামাজিক রীতি পালনের অনুষ্ঠানগুলোও উৎসব হয়ে ওঠে। কালক্রমে অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহাবস্থানের ফলে আদিবাসী সম্প্রদায়ের উৎসবের ওপর অন্য ধর্মেরও প্রভাব পড়েছে। যেমন এখন অনেক আদিবাসী গোষ্ঠী দেওয়ালি, দশেরা, হোলি পালন করেন।


  পশ্চিমবঙ্গে পূজিত আদিবাসী ও লৌকিক দেবদেবীদের একটি বড়ো অংশের পূজা হয় অব্রাহ্মণ পুরোহিতের দ্বারা। কোথাও কোথাও মন্দির ও মূর্তি গড়ে পূজা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লৌকিক দেবতাদের পূজা হয় গাছতলায় বা কুঁড়েঘরে, শিলাখণ্ড, মাটির ঢিপি, পোড়ামাটির হাতিঘোড়া অথবা জীয়ন্ত গাছের প্রতীকে। ধনসম্পত্তি লাভ, সন্তান লাভ, আরোগ্য লাভ, শস্য উৎপাদন ও বৃদ্ধি, বৃষ্টি, খরা নিবারণ, পুত্রকন্যার বিবাহ, মামলা-মোকদ্দমায় জয়লাভ, শত্রুনাশ এমনকি হাঁস-মুরগির ডিম পাড়া, অথবা গাইয়ের বুকে দুধ আসা, – সব ধরনের কামনায় এই সব দেবদেবীর পূজা প্রচলিত।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.