মন্দির সংবাদ
হাজার বছরের পুরোনো সোমনাথ মন্দির - ইতিহাসের একটা বিশেষ অংশ
১০২৬ সালে প্রথমবার আক্রান্ত হয়েছিল এই প্রাচীন সোমনাথ মন্দির। ঠিক এক হাজার বছর পর, ২০২৬ সালে সেই মন্দিরই উদযাপন করছে তার পুনর্নির্মাণের অমৃত মহোৎসব। ধ্বংস আর সৃষ্টির এক অদ্ভুত লড়াইয়ের ইতিহাস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে এই জ্যোতির্লিঙ্গ। ১৯৫১ সালে সোমনাথ মন্দিরের আধুনিকীকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। পরাধীনতার গ্লানি মুছে ফেলে সেটি ছিল এক স্বাধীন জাতির আত্মপরিচয় ঘোষণার উৎসব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি এই ৭৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একে ভারতের ‘স্বাধীন আত্মার ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্বাধীনতার পরপরই সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এই মন্দির পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
৫০০টি দেশীয় রাজ্যকে যেমন তিনি একসূত্রে গেঁথেছিলেন, সোমনাথের সংস্কার ছিল তাঁর সেই সংকল্পেরই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রূপ। তাঁর হাত ধরেই আধুনিক ভারতের মানচিত্রে সোমনাথের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়।
পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্তিতে মন্দিরে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী উচ্চারণ করেন ‘হর হর মহাদেব’। তাঁর মতে, ১৯৫১ সালের এই ঘটনা নিছক কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল না। বরং বিশ্ববাসীর কাছে এটি ছিল ভারতের শক্তিশালী হয়ে ওঠার বার্তা। রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা অর্জনের প্রতীক। অতীতে অনেকেই সোমনাথের আসল ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু লুণ্ঠনের কাহিনী নয়, এই মন্দিরের সহনশীলতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম আড়াল করা হয়েছিল। বর্তমান ভারত সেই লুকানো ইতিহাসকে গর্বের সঙ্গে সামনে নিয়ে আসছে।
