ইস্তফা দিতে চলেছেন গৌতম দেব - উত্তরবঙ্গে বড় ধাক্কা মমতার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বুঝেই উঠতে পারছেন না তার পাশে কে কে আছেন। শিলিগুড়ি পুরনিগমও সম্ভবত এবার হাতছাড়া হচ্ছে জোড়াফুল শিবিরের। বিধানসভা নির্বাচনে গোটা উত্তরবঙ্গে ভরাডুবি হয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে, কোচবিহারে কার্যত নিশ্চিহ্ন তৃণমূল কংগ্রেস। সিতাইয়ে তৃণমূলের টিকিটে সঙ্গীতা বসুনিয়া জিতলেও তিনি এখন বিদ্রোহী শিবিরে। সাংসদরাও বিদ্রোহী। ফলে গোটা উত্তরে সেভাবে দেখতে গেলে তৃণমূলের একমাত্র সম্বল শিলিগুড়ি পুরনিগম। সেই শিলিগুড়ি পুরনিগমও সম্ভবত এবার হাতছাড়া হচ্ছে জোড়াফুল শিবিরের। শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন গৌতম দেব। তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। শুক্রবার তিনি প্রশাসনের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠাবেন। বুধবার গৌতম দেবকে তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা কমিটির (সমতল) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করে দল।
তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন তিনি সংগঠনে আরও বেশি করে নজর দিন। এর মধ্যে আচমকা মেয়র পদে ইস্তফার কারণ নিয়ে জল্পনা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার পুরনিগমের মেয়র পারিষদদের নিয়ে বৈঠক করেন গৌতম। সেখানে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ করলে তা নিয়ে মতভেদ দেখা দেয় মেয়র পারিষদদের মধ্যে। কার্যত দু’ভাগে ভাগ হয়ে যান মেয়র পারিষদরা। বস্তুত শিলিগুড়ি পুরবোর্ডের মেয়াদ আরও এক বছরেরও বেশি বাকি রয়েছে। তাই অনেক মেয়র পারিষদই ইস্তফা দিতে চাইছিলেন না। তবে গৌতম তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। যা খবর শুক্রবারই তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন। সেটা হলে শিলিগুড়ি পুরনিগমও হাতাছারা হবে জোড়াফুল শিবির। নতুন করে অন্য কাউকে মেয়র করে বোর্ড গঠনের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। শিলিগুড়ি হাতছাড়া হলে উত্তরে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তৃণমূল।
