কলকাতার বহু রাস্তার নামের পরিবর্তন করতে চলেছে শুভেন্দু সরকার
এক একবার এক এক সরকার আসবে, আর রাস্তার নামের পরিবর্তন হয়ে যাবে - এতে কিন্তু বিভ্রান্ত হবে সাধারণ মানুষ। কিন্তু প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নিজস্ব একটা দর্শন থাকে সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, 'কলকাতায় মোগল-পাঠানের নাম থাকবে না।' ইঙ্গিতটা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। এদিন শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'সুরহাবর্দির নামে কোনও রাস্তার নাম হবে না। আমি যখন পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট দিয়ে যাতায়াত করি, তখন দেখি সুরহাবর্দি নামে রাস্তার নাম। ওই নাম থাকবে না। যদি মনে করেন ড. এপিজে আবদুল কালামের নামে কোনও প্রকৃত দেশভক্তকে সম্মান দেওয়ার প্রয়োজন আছে, তখন বলবেন, মর্যাদা দেব। আমি পরে জেনেছি অন্য সুরহাবর্দি। তবে শুনে রাখুন, ৫টা গুলি করেছিল যে স্বাধীনতা সংগ্রামী বীণা বসু, তাঁকে ব্রিটিশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই তৎকালীন ভাইস চান্সেলারকে নাইট উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই কলকাতাতে কোনও মোগল-পাঠানের নাম থাকবে না। ভোগিনী নিবেদিতা ছাড়া অন্য কোনও বিদেশির নামে রাস্তা করতে গেলে ভাবতে হবে।'
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, স্বামী প্রদীপানন্দ মহারাজের নেতৃত্বে নতুন করে নামকরণ মূল্যায়ণ করবে এই কমিটি। পদ্মশ্রী মহারাজের এই কমিটিতে যাঁর যা প্রস্তাব আছে দেওয়া যাবে। বাংলার ঐতহ্য, সংস্কৃতি ও গৌরবকে মুছে ফেলা যাবে না বলে স্পষ্ট করে দেন শুভেন্দু।
উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের দেড় মাসের মধ্যেই কলকাতার পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্ট থেকে ডন বস্কো সার্কেল পর্যন্ত ৫০০ মিটার রাস্তা, যা এতদিন সুরহাবর্দি অ্যাভিনিউ নামে পরিচিত ছিল, তা বদলে ফেলা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে,ওই রাস্তার নাম পাল্টে হয়েছে গোপাল মুখার্জি রোড। ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবসে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এক্স পোস্ট করে বলেছিলেন, 'কয়েক দশক ধরে কলকাতার একটি প্রধান রাস্তার নাম এমন একজনের নামে ছিল, যিনি নিছক রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন। গণহত্যা চালিয়েছিলেন সুরহাবর্দি। ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন গোপাল। তাঁর নামে রাস্তার নামকরণ করায় এত দিনে প্রকৃত অভিভাবক এবং ত্রাণকর্তাকে সম্মান জানানো হল।'
